কর প্রত্যাহার না হলে সারাদেশ অচল করার হুমকি বিড়ি শ্রমিকদের

আপডেট : ৩০ মে ২০১৯, ১৬:৫০

বিড়ি শিল্পের ওপর থেকে বর্ধিত কর প্রত্যাহার ও বিড়ি শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বন্ধ না হলে ঢাকাসহ সারাদেশ অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বিড়ি শ্রমিকরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বিড়ি শ্রমিকদের সমাবেশে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এমকে বাঙ্গালীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আকম সারোয়ার জাহান বাদশা।

ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য প্রদান দেন কার্যকরী সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল গফুর, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত লাভলু, প্রচার সম্পাদক শামীম ইসলাম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, শ্রমিক নেত্রী মায়া বেগমসহ সারাদেশ থেকে আগত শ্রমিকরা নেতারা। সমাবেশে পাঁচ হাজার বিড়ি শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আকম সারোয়ার জাহান বাদশা এমপি বলেন, বিড়ি একটি কুটির শিল্প। এই শিল্পের সঙ্গে ২০ লাখের বেশি শ্রমিক জড়িত। শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে এ শিল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিড়ির ওপর বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানি সিগারেটকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় দিয়ে বিড়িকে ১০ বছর আগে বন্ধ করে সিগারেটের সঙ্গে বিড়ি অসামঞ্জস্য নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এটা কখনো হতে পারে না। 

তিনি আরও বলেন, ধূমপান বন্ধ করতে হলে বিড়ি ও সিগারেট দুটিই বন্ধ করতে হবে। একটি চালু রেখে অপরটি চালু থাকবে তা হতে পারে না। ১০ বছর বিদেশি কোম্পানিকে একচেটিয়া ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

তিনি জাতীয় সংসদে বিড়ির ওপর বৈষম্যমূলক নীতি ও বিড়ি শ্রমিকের মজুরীর বিষয়ে কথা বলবেন বলে সমাবেশে জানান। এছাড়াও শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধির জন্য তিনি বিড়ি মালিকদের অনুরোধ করেন।

আরও পড়ুন: ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে’

ফেডারেশনের সভাপতি এমকে বাঙ্গালী বলেন, দেশে ধূমপান থাকলে বিড়ি থাকবে। সিগারেটকে রেখে বিড়ি ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে বিড়ির ওপর কর বৃদ্ধির পাঁয়তারা করা হলে বিশ লাখ বিড়ি শ্রমিক নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব। প্রয়োজনে রাজধানী ঢাকা অচল করে দিব। চর, নদীভাঙ্গন ও মঙ্গা অঞ্চলের বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে বিড়ির ওপর কর কমানোর জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করছি।

এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বিড়ি শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা কামনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি গরিবের নেত্রী। আমাদের বিশ্বাস আপনি ক্ষমতায় থাকতে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। আপনি আমাদের ২০ লাখ শ্রমিকের দিকে তাকিয়ে বিড়ির ওপর বর্ধিত কর প্রত্যাহার করুন।

ইত্তেফাক/কেকে