বাংলা
বইয়ের পাতায় প্রদীপ জ্বলে
মো. আতাউর রহমান (সায়েম)
সাবেক শিক্ষক (বাংলা)
সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল, ঢাকা।
অধ্যায়টি মনোযোগ দিয়ে পড়বে। তাহলে প্রত্যেকটির উত্তর দিতে পারবে। কোথাও কোন সমস্যা হলে সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করবে অথবা শিক্ষকের সহযোগিতা নেবে।
বই (কবিতা)
সময়: ২০ মিনিট, পূর্ণমান: ১০ নম্বর
১। এক কথায় প্রকাশ কর:
(ক) আলোক দান করে যে
(খ) অবাস্তব যা
(গ) চোখে দেখতে পায় না এমন
(ঘ) আটক যা
(ঙ) পৃথক হওয়া
২। নিচের যুক্তবর্ণগুলো ভেঙ্গে একটি করে শব্দ তৈরি কর এবং তৈরীকৃত শব্দ দিয়ে একটি করে নতুন বাক্য লেখ:
স্ব, প্র, ন্ধ, র্য, প্ন
৩। নিচের শব্দগুলো কোন্ কোন্ পদ তা নির্ণয় কর:
প্রদীপ, জ্বলে, বই, তোমাকে, সূর্য
৪। নিচের বাক্যগুলোর শুদ্ধ শব্দের বানান লেখ:
(ক) বইয়ের পাতায় প্রদ্বীপ জ্বলে
(খ) বইয়ের পাতা সপ্ন বলে
(গ) ভালো বই জুরে সূর্য ওঠে
(ঘ) তোমাকে সেখায় বাসতে ভালো
(ঙ) যে-বই তোমায় বন্দ করে
৫। দাগ দেওয়া সংবলিত বিপরীত শব্দ লেখ:
(ক) আগুন জ্বলতে শুরু করেছে।
(খ) উদ্দীপকটি পড়া দরকার।
(গ) লোক দুটি ভিন্ন ভাষায় কথা বলে।
(ঘ) চারদিকে অন্ধকার ছড়িয়ে পড়েছে।
(ঙ) ঘরটির জানালা বন্ধ হয়ে আছে।
অবাক জলপান
১। এক কথায় প্রকাশ কর:
(ক) যে পাহারাদার হিসেবে পরিচিত
(খ) দেখে ভয় লাগে এরকম শুকনো চেহারা
(গ) কাঠের তৈরি খাট
(ঘ) যে যন্ত্রের সাহায্যে অত্যন্ত ক্ষুদ্র বস্তু অনেক বড় দেখায়
(ঙ) কুকুরের কামড়ে যে রোগ হয়
২। নিচের যুক্তবর্ণগুলো ভেঙ্গে একটি করে শব্দ তৈরি কর এবং তৈরীকৃত শব্দ দিয়ে একটি করে নতুন বাক্য লেখ:
চ্চ, শ্ব, স্ত, ণ্ট, দ্ধ
৩। নিচের শব্দগুলো কোন্ কোন্ পদ তা নির্ণয় কর:
পরিশ্রুত, আপনার, শুকিয়ে, গিয়ে, এবং
৪। নিচের শব্দগুলোর দুটি করে সমার্থক শব্দ লেখ:
জল, চমত্কার, আকাঙ্ক্ষা, পিপাসা, গাঁ
৫। দাগ দেওয়া সংবলিত শব্দের বিপরীত শব্দ লেখ:
(ক) সকাল থেকে বৃদ্ধটি কাজ করছে।
(খ) রোদে বের হলে ছাতা ব্যবহার করা দরকার।
(গ) ভালো স্বাস্থ্যের জন্য পরিশ্রুত পানি পান করা উচিত।
(ঘ) চারদিকে ফুলের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
(ঙ) ‘অবাক জলপান’ একটি হাসির গল্প।
৬। নিচের প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:
(ক) সুকুমার রায় কী লিখে বিখ্যাত হয়ে আছেন?
(খ) ‘বোবা জল’ বলতে কী বোঝায়?
(গ)‘জলাতঙ্ক’ কাকে বলে? এই রোগ কেমন করে হয়?
০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০
বিজ্ঞান
প্রযুক্তি স্থির থাকে না, প্রতিনিয়তই বদলায়
সি এম মিরাজুল ইসলাম
প্রভাষক
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ
প্রিয় শিক্ষার্থীরা আজ আমাদের জীবনে প্রযুক্তি অধ্যায় থেকে রচনামূলক প্রশ্নোত্তর দেয়া হলো।
আমাদের জীবনে প্রযুক্তি
প্রশ্ন-৩: প্রযুক্তি স্থির থাকে না, ক্রমাগত বদলে যায়- এটি উদাহরণ সহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সময়ের সাথে সভ্যতার যেমন অগ্রগতি ঘটে প্রযুক্তি তেমনি বদলে যায় ও বিকশিত হয়।
নিচের উদাহরণগুলো লক্ষ্য করলে আমরা বুঝতে পারব প্রযুক্তি কখনও স্থির থাকে না ক্রমাগত বদলে যায়।
(i) প্রাচীনকালে মানুষ মাটির তৈরি কুঁড়ে ঘরে বাস করত। কিন্তু এখন বসবাসের জন্য বহুতল দালান নির্মাণ করছে।
(ii) প্রাচীনকালে মানুষ যাতায়াতের জন্য গরুরগাড়ি, ঘোড়ারগাড়ি, নৌকা ইত্যাদি ব্যবহার করত। কিন্তু এখন সেখানে ব্যবহার করছে বাস, ট্রেন, লঞ্চ, ইত্যাদি।
(iii) আগে মানুষ কবুতরের মাধ্যমে কিংবা ঢোল পিটিয়ে তথ্যের আদান প্রদান করত। এখন মানুষ মোবাইল, টেলিফোন, ফ্যাক্স ইত্যাদি ব্যবহার করছে।
(iv) সূর্য দেখে আগে সময় নির্ণয় করা হত। এখন ঘড়ি দেখে সময় নির্ণয় করা হয়।
(v) আগে কৃষকরা কৃষিকাজে লাঙ্গল, কোদাল, কাস্তে এবং সরল কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহার করত। কিন্তু এখন তারা ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, ড্রাম সিডার, সেচযন্ত্র ইত্যাদি ব্যবহার করছে।
উপরের আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে মানুষ তার জীবনযাত্রাকে সহজ থেকে সহজতর করার জন্য প্রতিনিয়তই প্রযুক্তি বদলাচ্ছে। সুতরাং বলা যায়, প্রযুক্তি স্থির থাকে না, প্রতিনিয়তই বদলায়।
প্রশ্ন-৪: প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: প্রয়োজনবোধ ও জীবনের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের প্রেক্ষাপট হতেই প্রযুক্তির উদ্ভব। আমাদের জীবন প্রযুক্তি দ্বারা প্রভাবিত। আমাদের জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির প্রভাব যে কত ব্যাপক তা একটু লক্ষ্য করলে বুঝা যাবে। সকালে আযানের ধ্বনি, পাখির ডাকে ঘুম ভাঙ্গা থেকে শুরু করে পুনরায় ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত পুরো সময়টাতে আমাদের জীবন প্রযুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
সকালে ঘুম থেকে উঠে শৌচারগার ব্যবহার, গোসলের সময় সাবান ব্যবহার, খাবার রান্না করা, ঘড়ি দেখে স্কুলে যাওয়া, দূরের স্কুলে যেতে সাইকেল বা বাস ব্যবহার, রাত্রে বাতি জ্বালিয়ে বই পড়া, কলম দিয়ে খাতায় লেখা, জ্বর হলে থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মাপা, রোগমুক্তির জন্য ওষুধ সেবন করা, রেডিওতে খবর শোনা ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে আমরা শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারই করছিনা বরং ব্যবহূত এসব প্রযুক্তি আমাদের জীবন যাত্রাকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে।
আবার আমাদের খাবার খাওয়া, গৃহে বসবাস, পোষাক পরা দূরত্ব অতিক্রমের জন্য যানবাহনের ধরন। সময় নিয়ন্ত্রণ, তথ্য আদান-প্রদান উপায়, অসুস্থ হলে চিকিত্সা পাওয়া না পাওয়া- এসব কিছু নির্ভর করে কোন কোন প্রযুক্তি আমাদের চারপাশে আছে তার ওপর। অর্থাত্ আমাদের জীবনে, প্রত্যাশা, দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা সবকিছুর জন্য আমরা প্রযুক্তির ওপরে নির্ভরশীল।
তাই উপরিক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা দেখতে পাই জীবনের প্রতি মুহূর্তে প্রযুক্তি আমাদের সমগ্র জীবন ধারাকে প্রভাবিত করে চলেছে।
