অবশেষে বিজিবির তত্পরতায় কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা সীমান্তে ভারতীয় দখলে থাকা বাংলাদেশের ২৫ বিঘা জমি উদ্ধার হয়েছে। জমি উদ্ধারের পর পরই ঐ জমিতে ভারতীয় নাগরিকের পরিবর্তে এখন বাংলাদেশি কৃষকেরা চাষাবাদ করছেন।
কমলগঞ্জের ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা সীমান্তের ছেচার কোনা এলাকায় বাংলাদেশের ২৫ বিঘা জমি ভারতীয় দাবি করে বিএসএফ-এর সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় নাগরিকরা চাষাবাদ করছিল। গত ১০/১২ বছর ধরে বিজিবি ও বিএসএফে’র মাঝে অনেক পত্র আদান-প্রদান ও পতাকা বৈঠক হলেও জমি উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
এ নিয়ে পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফ কমান্ডারের কাছে জমি ফেরতের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশের জমির দাবির পক্ষে তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয়পক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন শেষে অস্থায়ী জরিপের সিদ্ধান্ত মোতাবেক উভয় দেশের কোম্পানী কমান্ডার, ব্যাটেলিয়ন কমান্ডারদের উপস্থিতিতে জমি জরিপ করলে ১৯০৬নং সীমান্ত খুঁটির সাব খুঁটি ১৪ থেকে ১৯০৭নং সীমান্ত খুঁটির সাব খুঁটি ১১ এর মধ্যে ২৫ বিঘা (৮ একর) জমি বাংলাদেশের বলে প্রতীয়মান হয়। সে সময় ভারতীয় কমান্ডার সঞ্জয় সিং ভারতীয় নাগরিকদের বুঝিয়ে এবং তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বাংলাদেশের জমি ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
শ্রীমঙ্গলস্থ ১৪নং বিজিবি ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার ল্যাঃ কর্ণেল চৌধুরী সাইফ উদ্দীন কাওছার বলেন, বাংলাদেশি জমি উদ্ধারে এ বছরের পুরো মে মাসে দফায় দফায় বিএসএফের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা হয়েছে। পুরো জুন মাসে দফায় দফায় জমি পরিমাপ করে বিএসএফ বিজিবি’র কাছে সে জমি হস্তান্তর করেছে। তবে বাংলাদেশি জমি ভারতীয় দখলমুক্ত সংক্রান্ত সংবাদ তাত্ক্ষণিকভাবে প্রচার না করানোর জন্য বিএসএফ কর্মকর্তাদের জোরালো অনুরোধ থাকায় বিজিবির পক্ষে এ নিয়ে প্রচার মাধ্যমে কোন কথা বলা হয়নি।
