টন প্রতি ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করায় পাবনার আটঘরিয়ায় খয়রাতি বরাদ্দকৃত (জিআর) প্রকল্পের ২শ’ ৮৮মে: টন চাল-গম পুরোটাই ফেরত গেল। এতে প্রায় পৌনে এক কোটির উন্নয়নমূলক কাজ থেকে বঞ্চিত হলো উপজেলাবাসী।
এদিকে একই উপজেলায় বিশেষ টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পের গম হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাজ না করেই কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে ২৭০ মে: টন গম উত্তোলন করে আত্মসাত্ করেন। যেসব প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ওই সব প্রতিষ্ঠানের কাউকে অবগত না করেই যাদেরকে প্রকল্প চেয়ারম্যান করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাদের অনেককেই এলাকার লোক চেনেন না। তবে এসব দুর্নীতির সাথে খোদ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সরাসরি জড়িত বলে এসব প্রকল্পের সভাপতিগণ অভিযোগ করেছেন।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের আটঘরিয়ায় খয়রাতি (জিআর) প্রকল্পে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ২৮৮মে:টন চাল-গম বরাদ্দ পায়। তবে জিআর প্রকল্পের প্রত্যেক সভাপতির নিকট টন প্রতি ৪ হাজার টাকা দাবি করেন আটঘরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। এর প্রেক্ষিতে ওই সব প্রকল্পের সভাপতিগণ দাবিকৃত ৪ হাজার টাকা না দেয়ায় পিআইও নিজেই গত ৩০ জুন তারিখে ২৮৮মে:টন চাল-গম পুরোটাই ফেরত পাঠায়।
মুঠোফোনে পিআইও’ বলেন, সামান্য কিছু নিতে হয়। তা না হলে আমাদের চলবে কি করে। এর মধ্যে আবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন উপরের কর্তা এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কিছু দিতে হয়।
বয়ড়া জামে মসজিদের সভাপতি মো. নুর উদ্দিন ফকির জানান, তার মসজিদে এবার এক মে:টন চাল বরাদ্দ হয়। কিন্তু তিনি জানেন না যে, তার মসজিদের বরাদ্দকৃত চাল-গম ভুয়া প্রকল্প বানিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রেজাউল করিমের সাথে যোগসাজশে চাঁদভা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা পুরো টাকাই আত্মসাত্ করেছেন। শুধু এই প্রকল্পই নয় তার মতো উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় সবক’টি প্রকল্পের টাকা পুরোটাই আত্মসাত্ করেছেন।
চাঁদভা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাও. ওয়ালিউল্লাহ বলেন, যে কোনো প্রকল্প পেলে পিআইওকে টন প্রতি দুই থেকে চার হাজার টাকা, ইউএনওকে টন প্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা না দিলে প্রকল্প পাস হয় না।
