হযরত খান জাহান আলীর বিলুপ্ত নগরী বারোবাজার

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৯
বিলুপ্ত নগরী বারোবাজার। ভাঙ্গাচোরা ইটের নিচে চাপা পড়ে আছে এ নগরের ইতিহাস। হোসেন উদ্দীন হোসেনের লেখা ‘যশোরাদ্য দেশ’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, বারোটি বাজার নিয়ে প্রসিদ্ধ ছিল প্রাচীন বারোবাজার নগরী। এ নগরের পরিধি ছিল ১০ বর্গমাইল। খোশালপুর, পিরোজপুর, বাঁদুরগাছা, সাদেকপুর, দৌলতপুর, সাতগাছিয়া, এনায়েতপুর, মুরাদগড়, রহমতপুর, মোল্লাডাঙ্গা, বাদেডিহী প্রভৃতি গ্রাম নিয়ে গড়ে উঠেছিল এ নগরী। মসলিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান পণ্য এখান থেকে রপ্তানি হত দেশের বাইরে। পঞ্চদশ শতাব্দীতে হযরত খান জাহান আলী এদেশে ইসলাম প্রচারে এসে বারোবাজারে আস্তানা স্থাপন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন দরবেশ ও আউলিয়া। দলে দলে মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এলাকাটির নামকরণ হয় ‘শহর মহম্মদাবাদ’। একে একে গড়ে উঠে অনেকগুলো মসজিদ। প্রতিটি মসজিদের সাথে খনন করা হয় একটি করে দীঘি। একসময় হযরত খান জাহান আলী বারোবাজার ছেড়ে বাগেরহাটে চলে যান। তারপর একসময় এ নগরী ধবংস হয়ে যায়। কিভাবে এ নগরী ধবংস হয়েছিল তা অবশ্য জানা যায়নি। মসজিদগুলো মাটির নিচে চাপা পড়ে। গত শতাব্দীর আশির দশকের মাঝামাঝি স্থানীয় মানুষ জঙ্গলে ঘেরা উঁচু উঁচু মাটির ঢিবির নিচে প্রাচীন আমলের মসজিদের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পায়। এরপর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ঢিবিগুলো খনন শুরু করে। এ পর্যন্ত সাতগাছিয়া মসজিদ, গলাকাটা মসজিদ, জোড়বাংলা মসজিদ, মনোহর মসজিদ, গোড়ার মসজিদ, পীরপুকুর মসজিদ, শুকুর মল্লিক মসজিদ, নুনগোলা মসজিদ, পাঠাগার মসজিদ ও চেরাগদানী মসজিদ আবিষ্কার হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর আগের অবয়ব ঠিক রেখে মসজিদগুলো সংস্কার বা নির্মাণ শুরু করে। এ পর্যন্ত ৬টি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। সাতগাছিয়া, পীরপুকুর, মনোহর ও নুনগোলা মসজিদের পুনঃনির্মাণ কাজ অর্ধেক হওয়ার পর থেমে আছে। এসব মসজিদে নতুন করে আযানের ধ্বনি শোনা যায়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ নামাজ পড়ছেন। প্রতিদিন বিভিন্নস্থান থেকে মানুষ মসজিদগুলো দেখতে বারোবাজার আসেন। অনেকগুলো কবরখানা আবিষ্কার করা হয়। মাটি খুঁড়লে মানুষের কংকাল মেলে। এতে ধারণা করা যায়, যুদ্ধবিগ্রহ বা মহামারিতে মানুষ মারা যায় এবং সে জন্য এ নগরী ধ্বংস হয়ে যায়। বারোবাজারকে একটি পর্যটন কেন্দ হিসাবে গড়ে তোলা যায়।