লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক আজ

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৪, ২২:৫০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো আয়োজিত গার্ল সামিটে যোগদানের লক্ষ্যে তিনদিনের সরকারি সফরে গতকাল সোমবার রাতে লন্ডনে পৌঁছেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক এ্যান্থনি লেকের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্য সফর করছেন। আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় সামিটে প্রধানমন্ত্রী ২০ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। এদিকে, আজ সকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠকে দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্ক ও বহুপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লি¬ষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং পার্লামেন্টে বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী জাস্টিন গ্রিনিং এবং ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডগলাস আলেকজান্ডার। বুধবার দেশে ফেরার প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি কমিউনিটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে সকাল পৌনে ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। বিমানবন্দরে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এএসএম ফিরোজ অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে তিনটায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণের পর যু্ক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজারুল কায়েস, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট উইনিংটন গিবসন এবং ডিএফআইডির আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক এন্থনি স্মিথ বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রাসহকারে লন্ডনের হিলটন হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সেখানেই অবস্থান করবেন। গত ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার এটি হবে প্রথম কোনো ইউরোপীয় দেশ সফর। ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন (এফজিএম) এবং শিশু, বাল্য ও জোরপূর্বক বিবাহ (সিইএফএম) অবসানে যুক্তরাজ্য সরকার এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে এই গার্ল সামিট আয়োজন করছে। এই বৈঠক মেয়েদের বাল্য ও জোরপূর্বক বিবাহ বন্ধ, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসান, নিরাপদ শিশু জন্মদান, নারীর কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং ভূমি ও উত্তরাধিকার প্রাপ্তিতে আইন সংস্কারেও সহায়তা করবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫২টি দেশের প্রতিনিধিরা এ সামিটে যোগ দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর একটি উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগদান এবং বার্কিনা ফাসোর ফার্স্ট লেডি চান্টাল কম্পাওরে ও পাকিস্তানের বিখ্যাত শিক্ষা অনুরাগী মালালা ইউসুফ জাইর সঙ্গে আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে। উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনটি সঞ্চালন করবেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক এ্যান্থনি লেক।