বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) উদ্দেশ্যে বলেছেন, ব্যাংকিং খাতের দু’-একটি অনিয়মের ঘটনা সমস্ত ভালো কাজকে ম্লান করে দেবে—তা হতে পারে না। তাই আমি আপনাদের সাবধান করে দিতে চাই, এরপর ঋণ শৃঙ্খলায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে ব্যাংকার্স সভায় গভর্নর এসব কথা বলেন। সভায় কেন্দ ীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও এমডিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ব্যাংকের স্বাস্থ্য ঠিক রেখে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ যৌক্তিককরণ এবং ব্যাংকিং নিয়মাচার পরিপালন করে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সভায় গভর্নর এমডিদের উদ্দেশে আরো বলেন, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পদ্ধতি শক্তিশালী করুন। আপনারা ঋণ প্রদানে আরো সতর্ক হোন। গুণমানের ঋণ প্রস্তাব পর্ষদে পাঠান। পর্ষদ অন্যায় চাপ দিলে তা প্রতিহত করার কৌশল অর্জন করুন। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা নিয়ে ঋণ শৃঙ্খলা শক্তিশালী করার জন্যে সুশাসনের পরিবেশ সৃষ্টি করুন। পর্ষদকে এ কথাটি অনুধাবনে সহযোগিতা করুন। আপনারা নিজেরা দায়িত্ব গ্রহণ করুন। আপনারা অনিয়ম করে বসে থাকবেন আর বাংলাদেশ ব্যাংক পরে গিয়ে তা ধরবে—এটি হলে অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ হবে না। অনিয়ম ছোট হোক অথবা বড়ো হোক তা আপনাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে। এখন আর অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না। আর্থিক খাতের রেগুলেটর ও তদারককারী হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখাই মূল বিষয়। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
সভায় সোনালী ব্যাংককে স্বীকৃত বিল দায় পরিশোধে সময়সীমা বেঁধে দেয়া, ঋণ গ্রহীতাকে না জানিয়ে সুদহার না বাড়ানো, অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আদায় থেকে বিরত থাকা, শিল্প ঋণে সুদহার কমানো, সংশোধিত ব্যাংক-কোম্পানি আইনের আলোকে স্বতন্ত্র পরিচালক, এক পরিবারের সর্বোচ্চ দু’জন পরিচালক হওয়ার বিধি-বিধান পরিপালনের তাগিদ দেয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বলেন, সংশোধিত ব্যাংক-কোম্পানি আইনে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ তিন বছরের মধ্যে মূলধনের ২৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১৫টির বিনিয়োগ এখনো নির্ধারিত সীমার ঊর্ধ্বে রয়েছে। ওই ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া যেসব ব্যাংকের বিনিয়োগ কম রয়েছে, তাদের এক্সপোজার বাড়াতে উত্সাহ দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের স্বাস্থ্য ঠিক রেখে আগামী মুদ্রানীতি পুঁজিবাজার বান্ধব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকারস্ বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা না আসলে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধায়নে সোনালী ব্যাংকের স্বীকৃত বিলের দায় পরিশোধে সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। যা ব্যাংকিং শিল্পকে সহায়তা করবে।
সোনালী ব্যাংকের মেয়াদোত্তীর্ণ বিল বিষয়ে এসকে সুর চৌধুরী বলেন, সোনালী ব্যাংকের কাছে এক হাজার ৭৫৬টির মতো বিল এখনো বাকি আছে। যা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। তিন ও ছয় মাস অন্তর চার কিস্তিতে এ বিল পরিশোধ করতে হবে। আর তা না হলে দেশের প্রচলিত আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
