গাজায় ইসরাইলি হামলায় লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছেই। আক্রমন অব্যাহত থাকার মধ্যে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে গতকালের হামলায় দুটো পরিবারের ত্রিশ জনেরও বেশী সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলছে, গাজা থেকে টানেলের মাধ্যমে ইসরাইলে ঢোকার পর অন্তত ১০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। টানা বোমাবর্ষণের মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অবলম্বে যুদ্ধবিরতির আহবান জানিয়েছে। কিন্তু ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হামলা বন্ধ করা হবে না। গতকাল তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়ালোনের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের নেতানিয়াহু বলেন, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত স্থল ও আকাশপথে অভিযান চলবে।
এদিকে, ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরাইলি হামলায় সব মিলিয়ে ৫০০’র বেশী ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর ইসরাইলের নিহত সেনার সংখ্যা ১৮ জন। গাজায় গতকাল সোমবার দিনটিও শুরু হয় কামানের গোলা আর বোমার শব্দে। গাজায় গত ১২ দিন ধরে প্রতিদিন বিরতিহীনভাবে চলছে গোলাবর্ষণ। আর সেই সঙ্গে প্রতিদিন বাড়ছে আহত-নিহতের সংখ্যা। ইসরাইলি বিমান থেকে গতকাল দক্ষিণ গাজার রাফা আর খান ইউনিসে দুটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়। গাজার হাসপাতালগুলোতে প্রতি মূহুর্তে এসে পৌছাচ্ছে আহত মানুষ আর নিহতদের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স। শেজাইয়া এলাকাটি এখন এক ধ্বংস্তুপ। ইসরাইলি হামলার পর বহু আহত নিহত মানুষের দেহ সেখানে এখনো ধ্বংসস্তুপের নীচে চাপা পড়ে আছে। হাজার হাজার মানুষ সেখান থেকে পালিয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গাজায় অবিলম্বে অস্ত্রবিরতির আহবান জানিয়েছে। গাজা সংকট নিয়ে একটি জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এ আহবান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন গাজায় ইসরাইলের গোলাবর্ষণকে ‘নির্মম কাজ’ বলে উল্লেখ করার পর নিরাপত্তা পরিষদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৫ শতাধিক নিহত ও ৩ সহস্রাধিক লোক আহত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও রবিবার গাজায় অবিলম্বে অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছেন। রবিবার মাত্র একদিনে ১শ’র বেশি ফিলিস্তিনি ও ১৩ ইসরাইলি সৈন্য নিহত হওয়ার পর ওবামা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ইসরাইলে হামাসের হামলারও নিন্দা জানান।
হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে বলা হয়, ওবামা গাজায় অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক হতাহতে এবং ইসরাইলি সৈন্যের প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ওবামা অবিলম্বে অস্ত্রবিরতির বিষয়ে ইসরাইল ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড়ভাবে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে তিনি গাজা ও ইসরাইলে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তবে ওবামা ইসরাইলের নিজেকে রক্ষার অধিকার রয়েছে বলেও পুনরায় উল্লেখ করেন।
গতকাল সকালে হামলায় নিহতদের মধ্যে সাতজনই শিশু। জাতিসংঘ জানায়, গাজায় এখন পর্যন্ত ৮৩ হাজার ৬৯৫ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং এ সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সমপ্রতি দখলকৃত পশ্চিম তীরে তিন ইসরাইলি কিশোর ও জেরুজালেমে এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে হত্যার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরাইলি তিন কিশোরকে হত্যার জন্য হামাসকে দায়ী করা হয়। তবে হামাস এ অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে। এর কয়েকদিন পর পূর্ব জেরুজালেমে এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে অপহরণের পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এরপর মূলত ইসরাইল ও হামাস পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করে। খবর বিবিসি ও এএফপির।
