বিদায় মাহে রমজান

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৪, ২৩:০৫
আজ ২৩ রমজান। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু রমজান মাসের সিয়ামের গুরুত্ব সম্পর্কে ইরশাদ করেন: যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সত্ কাজ করে তা তার জন্য অধিক কল্যাণকর। যদি তোমরা উপলব্ধি করতে পারতে তা হলে বুঝতে পারতে যে, সিয়াম পালন করাই তোমাদের অধিকতর কল্যাণকর। (সূরা বাকারা: আয়াত-১৮৪)। রমজানের সিয়াম ফরয। বিশেষ বিশেষ অবস্থায় এই সিয়াম তখন পালন করতে না পারলে তার জন্য কাযা, কাফ্ফারা, ফিদ্ইয়া আদায় করবার বিধান দেয়া হয়েছে। কিন্তু মাহে রমজানে সিয়াম পালনে যে অফুরন্ত আনন্দ, যে আত্মিক পরিতৃপ্তির সৌকর্য, যে পরিচ্ছন্নতার আমেজ অনুভব, যে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের প্রাচুর্য পরশ লাভ করা যায় তা অন্য সময়ে লাভ করা যায় না। কাযা, কাফ্ফারা, ফিদ্ইয়া দিলে ফর্য আদায় হয়ে যায় বটে, কিন্তু রমজানে যে প্রভূত কল্যাণ রয়েছে তাতো আর অর্জিত হয় না। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: মাহে রমজানের একটি সিয়াম ছেড়ে দেয়া এতো বড় কঠিন কর্ম যে, সারা জিন্দিগী সিয়াম পালন করলেও তার ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব না। (তিরমিযী শরীফ)। হাদীস শরীফে আছে: মাহে রমজানে একজন ফেরেশতা প্রতিদিন মানব জাতিকে সম্বোধন করে বলতে থাকে: হে অনুসন্ধান কারিগণ! আল্লাহ্র যিক্র করো আর আল্লাহ্র দিকে অগ্রসর হও। হে অনুসন্ধানকারিগণ এখনও সময় আছে ফিরে এসো, জ্ঞানচক্ষু উম্মিলিত করো। অতঃপর সে আবার বলতে থাকে: ক্ষমা চায় এমন কোনো ব্যক্তি আছে কি? তার ক্ষমা করা হবে। তওবা করনেওয়ালা কেউ কি আছে? তার তওবা কবুল করা হবে কারো কি কোনো কিছু দাবি করার আছে? তার দাবি পূরণ করা হবে। (আহ্মদ)। যুগশ্রেষ্ঠ সূফী কুত্বুল আলম হযরত মওলানা শাহ্ সূফী আলহাজ্ব তোয়াজউদ্দীন আহ্মদ রহমাতুল্লাহি ‘আলায়হি বলেছেন: রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহ্র রহমত এতো অজস ধারায় বর্ষিত হয় যে, তা অন্য কখনও হয় না। সেই রহমতের নূর অবলোকন করতে হলে ইলেম তাসাওউফ চর্চা করতে হবে।