দল-বদলেও রাজা

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৪, ২০:৫৬
টাইম মেশিনে করে যদি দুই মাস আগে ফিরে যাওয়া যেত! কে হতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় তারকা? লিওনেল মেসি কিংবা নেইমার—এই নাম গুলোই আসতো ঘুরে ফিরে। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত করে এই কথাটা বলে দেয়া যায় না। বিশ্বকাপে যে সকল তারকার আলো কেড়ে নিলেন জেমস রড্রিগেজ। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও লাতিনদের প্রিয় হামেস রড্রিগেজের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের কথা কি আর এতো সহজে ভুলে যাওয়া যায়! ছয়টি গোল করেছেন, পেয়েছেন গোল্ডেন বুট। বিশ্বকাপের সেরা গোলও তারই ভলি থেকে এসেছে। শুধু বিশ্বকাপেই নয়, বাছাইপর্বেও রড্রিগেজ ছিলেন সমান উজ্জ্বল। ১৩ ম্যাচে তিনি করেছেন ৯ গোল। বিশ্বকাপ শেষে তাই দলবদলের বাজারেও তাকে ঘিরেই চলছে সব হিসাব-নিকাশ। আর সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে কলম্বিয়ান এই ফরোয়ার্ডকে পেতে যাচ্ছে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। বেশ চড়া দামেই তাকে ফরাসী ক্লাব মোনাকো থেকে আনতে যাচ্ছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। এর মধ্যেই রিয়ালের হয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা সেরে ফেলেছেন তিনি। ব্রিটিশ ও স্প্যানিশ গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রড্রিগেজকে পাওয়ার জন্য রিয়াল মাদ্রিদকে খরচ করতে হচ্ছে প্রায় নয় কোটি ইউরো। ইংল্যান্ড ও লিভারপুলের সাবেক স্ট্রাইকার এমিল হেস্কিও মনে করছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কার্যকর হয়ে উঠবেন জেমস রড্রিগেজ, ‘সত্যি এবারের বিশ্বকাপটা আলোকিত করে তুলেছে জেমস রড্রিগেজ। বলের উপর ওর নিয়ন্ত্রণ যে কারোরই চোখে পড়বে। ক্ষিপ্রতা, আর ফুটবল দক্ষতা — সব মিলিয়ে বিশ্বের যেকোন রক্ষণভাগের জন্যই ভয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে ও। আশা করছি রিয়াল মাদ্রিদের হয়েও ও ঠিক একই কাজটাই করবে। ওর বয়স এখনও অনেক কম। সামনে অনেক অর্জন ওর জন্য অপেক্ষা করছে।’ সুখবর আছে আরও কয়েকজন কলম্বিয়ান তারকার জন্যও। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে কান্না নিয়ে বিদায় নিলেও বিশ্বকাপ শেষ হবার পরপরই বড় দল পেতে কোন রকম বেগ পেতে হচ্ছে না দলের খেলোয়াড়দের। দলের গোলরক্ষক ডেভিড অসপিনার সাথে চার বছরের চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সেড়ে ফেলেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল আর্সেনাল। গুজব আছে স্পেনের ইকার ক্যাসিয়াসকে দলে নেয়ার চেষ্টা করছেন আর্সেন ওয়েঙ্গার। কলম্বিয়ার হুয়ান কুয়াদার্দোকেও দেখা যেতে পারে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। স্প্যানিশ পত্রিকা স্পোর্ট জানিয়েছে, ফিওরেন্টিনার উইঙ্গারকে পাওয়ার জন্য দুই কোটি ৭৭ লাখ পাউন্ড খরচ করতে রাজি আছেন কোচ লুই ফন গাল। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনাও একই দিকে হাত বাড়িয়েছে। ৩ কোটি ৫০ লাখ ইউরো খরচ করতে রাজি কাতালানরা। জুভেন্টাসের মিডফিল্ডার আরতুরো ভিদালকেও চাই লুই ফন গালের। ২৭ বছর বয়সী এই চিলিয়ানকে পেতে দর কষাকষি চলছে। তাকে পেতে এখন পর্যন্ত ৫ কোটি ৪০ লাখ ইউরো খরচ করতে সম্মত হয়েছে রেড ডেভিলরা। রক্ষণভাগেও নতুন খেলোয়াড় আনতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আয়াক্স থেকে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ড্যালে ব্লিন্ডকে আনার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন ফন গাল। সর্বশেষ ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণীর ম্যাচে গোল করা ২৪ বছর বয়সী এই তারকাকে এক কোটি ৭ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে নিয়ে রক্ষণভাগের সমস্যা সমাধান করতে মরিয়া ডাচ কোচ। প্যাট্রিক এভরা ও আলেক্সান্ডার বাটনারের বিদায়ের পর রক্ষণভাগ নিয়ে নতুন করেই ভাবতে হচ্ছে এই কোচকে। রক্ষণ ভাগ নিয়ে সমস্যা আছে লা লিগার দল বার্সেলোনারও। তাদের নজর ছিল বিশ্বকাপ জয়ী জার্মান দলের ডিফেন্ডার ম্যাটস হামেলসের দিকে। কিন্তু বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের এই তারকা তার স্পেনে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন। গুজব আছে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দেখা যেতে পারে তাকে। সেক্ষেত্রে ২০ বারের লিগ শিরোপা জয়ীদের খরচ করতে হবে এক কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড। এদিকে ডিয়েগো কস্তা চলে যাওয়ার পর আক্রমণভাগকে নতুন করে সাজিয়ে নিতে মাঠে নেমেছেন স্প্যানিশ ক্লাবটির আর্জেন্টাইন কোচ ডিয়েগো সিমিওনে। গত মৌসুমে লা লিগার শিরোপা জয়ী দলটি দলে নিতে চাইছে নিজেদের সাবেক তারকা ফার্নান্দো তোরেসকে। যদিও হোসে মরিনহো ও রোমান আব্রামোভিচের চেলসি থেকে তাকে ছিনিয়ে আনা বেশ কষ্টসাধ্য কাজই হবে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জন্য।’ বিশ্বকাপ শুরুর আগে বেশ কয়েকটি স্প্যানিশ গণমাধ্যম অনুমান করেছিল, রিয়াল মাদ্রিদে আসতে যাচ্ছেন কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড রাদামেল ফ্যালকাও। তবে, সেই অনুমান উড়িয়ে দিয়েছেন এই তারকা। ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ মিস করা ফ্যালকাও এক সংবাদ সম্মেলনে মোনাকোতেই থেকে যাওয়ার ইচ্ছার কথা বলেন, ‘মোনাকোর নিজস্ব একটা লক্ষ্য আছে। আমিও ঠিক তেমনটাই চাই। আমি এখানেই থাকতে চাই আর এই ক্লাবটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিততে চাই। আমাদের দলটা দারুণ। আমরা সবাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে নিচ্ছি।’