ছোটদের ঈদ আনন্দ

আপডেট : ৩০ মে ২০১৯, ১৯:৩৯

প্রতি বছর আনন্দ আর খুশির বার্তা নিয়ে আসে ঈদ। ধনীর অট্টালিকা আর গরিবের জীর্ণ কুঠিরে ঈদের আনন্দ আসে সমানভাবে। ছোট-বড় সব মুসলমান সমবেত হয় ঈদের ময়দানে। এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায় সবাই। হাতে হাত, বুকে বুক, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরস্পর কোলাকুলি করে পরম মমতায়। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পরস্পর আবদ্ধ হয় ভালোবাসার বন্ধনে। ঈদ উত্সব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমানভাবে আলোড়িত করে। সবার সঙ্গে আমাদের ছোট্ট সোনামণিদেরও থাকে ঈদকে ঘিরে নানা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি। ঈদ এলে তাদের খুশি আর দেখে কে? কতশত পরিকল্পনা আর কত ভাবনা এসে জড়ো হয় তাদের ছোট্ট মনে! কিভাবে কাটে তাদের খুশির দিনটি—এ নিয়েই এবার আমাদের আয়োজন। গ্রন্থনা করেছেন— রুমান হাফিজ       

ঈদ মানেই খুশির বন্যা

মুশতারী আহমদ

 

যখন শুনতে পাই ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি, তখনই মনের ভেতর একটা উত্সবের আমেজ চলে আসে। ঈদের দিনের সকালটা আমার শুরু হয় আম্মুর হাতের পায়েস খেয়ে। এরপর ভাইয়া ঈদগাহ থেকে ঈদের নামাজ শেষ করে এলে, একসঙ্গে সবাই বসে নাস্তা করি।

ছোট ভাইটাও আমায় খুব জ্বালাতন করে। ঈদের দিনও ওর কার্টুন দেখা চাই-ই চাই।

ঈদের দিন শুরুতেই আম্মুকে সালাম করে ঈদি দিতে বলি। আম্মুর দেওয়া ঈদিগুলো আমি খুব যত্ন করে রাখি। যখন স্কুল খুলবে তখন এগুলো দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ভেলপুরি খাব। ঈদের দিন বিকেলে কিংবা ঈদের পরের দিনই আমরা সবাই নানাবাড়ি যাই। ঈদের পর নানাবাড়ি যাওয়াটাও এখন উত্সবের একটা অংশের মতো হয়ে গেছে। এককথায় ঈদ এখন আমার কাছে একটা স্বপ্নরঙিন দিনের মতো! ঈদ এলেই আমার মনে খুশির বন্যা নেমে আসে।

পঞ্চম শ্রেণি, সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ঈদের দিন মিষ্টি খাবার

ভালো লাগে   

সাদিয়া তাসনীম

 

ঈদ আসতে না আসতেই ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়ে যায়। নতুন জামা, নতুন জুতো কিনতে পেরে মনটা আনন্দে ভরে ওঠে। যতই ব্যস্ততা থাকুক, সুরভী আপুর থেকে মেহেদি পরার ভাগটা মিস করি না! ঈদের দিন সকালবেলা বিছানা থেকে উঠে গোসল করে সেমাই খেতে ভালো লাগে। নতুন জামা, জুতো পরে বাবার সঙ্গে ঘুরতে বের হই। ফিরে এসে দেখি আত্মীয়স্বজন উপস্থিত। বড়দের সালাম করে সালামি নিই। দুপুরবেলায় অনেক খাওয়া-দাওয়া হয়। বিকেলে বাসায় বন্ধুরা ঘুরতে আসে। হইচই আর ছোটাছুটিতে বিকেলবেলা কেটে যায়। ঈদের দিনটা আমার এভাবেই কাটে।

 

চতুর্থ শ্রেণি, শহীদ লে. জি. এম মুশফিক বীর উত্তম উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম

 

সালামির জন্য

অপেক্ষা করি 

শাহিরয়ার সাকিব

 

ঈদ এলে কত প্ল্যান করতে থাকি। কার থেকে কিভাবে সেলামি আদায় করব। এ কাজে আমার সহযোগী চাচাত ভাই জয়। আমরা দুজন মিলে ঈদ নিয়ে যত চিন্তাভাবনা, শেয়ার করি। ঈদের কয়েকদিন আগেই জমানো শুরু করি খড়কুটো! কারণ, মধ্যরাতে গোসল করে আগুনে গা শুকাতে হবে যে! আর লীনা আপুর কাছ থেকে মেহেদি লাগানো তো কোনোভাবেই মিস করি না। আপু বিরক্ত হয়। আমরা তাকে অনেক ভুলিয়ে ভালিয়ে রাজি করাই। ঈদের আগের রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ি, কারণ নতুন কাপড় পরে আগেভাগেই সবার থেকে সালামি নিতে হবে যে!

 

দশম শ্রেণি, কেজিডিএস উচ্চ বিদ্যালয়, ওসমানী নগর, সিলেট

ঈদে ঘোরাঘুরির সুযোগ হয়   

মালিহা আঞ্জুম

 

চাঁদরাত থেকেই ঈদের আমেজ শুরু হয়ে যায়। পিঠাপুলি বানাতে আম্মুকে সাহায্য করি, নতুবা পাশে বসে দেখতে থাকি। যত দেরিতেই ঘুমাই না কেন, ঈদের দিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে যাই এবং ব্যস্ততাও শুরু হয়ে যায় তখন থেকেই। বাসায় অতিথিরা আসেন, তাই আমাদের ঈদের দিনে কোথাও বেড়ানোর সুযোগ হয় না। চাঁদ দেখার পর থেকেই হই-হুল্লোড় শুরু হয়ে যায়, আর ঈদের দিন সালামি পাওয়ার জন্য আমরা ছোটরা সবাই রীতিমতো প্রতিযোগিতা করে বড়দের সালাম করি। সারা বছর অপেক্ষা করি এই দিনটির জন্য, আর এ দিনটি মাত্র কয়েক ঘণ্টাতেই শেষ হয়ে যায়! তবে ঈদের পরদিন আমার আনন্দ শুরু হয়, আর এই আনন্দটা হলো ঘোরাঘুরি!

 

ষষ্ঠ শ্রেণি, প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ইংরেজি মাধ্যম), চট্টগ্রাম

পাঞ্জাবি পরে ঈদগাহে যাই  

শরীফ ওয়ালিউর রহমান

 

ঈদে আমি বাবা-মা আর জারার সঙ্গে কাটাব। আমার বাবা কুমিল্লা থাকেন। আসার সময় আমাদের জন্য অনেক সুন্দর জামা নিয়ে আসেন। আম্মুও আমাকে জামা কিনে দেন। অনেক খুশি হই। ছোট বোন আর আমাকে আম্মু সাজিয়ে দেন। আমরা প্রথমে আম্মু-আব্বুকে সালাম করি। একসঙ্গে খাবার খাই। আব্বুর সঙ্গে পাঞ্জাবি পরে ঈদের নামাজে যাই। বিকেলে বেড়াতে যাই। বড়দের সালাম করি। তাঁরা আমাকে অনেক আদর করেন এবং সালামি দেন। এবারের ঈদে আমি আমার পরিবারের সঙ্গে অনেক আনন্দ করব। ঈদে আমার মায়ের রান্না করা খাবার খাব। কত মজা হবে!

 

দ্বিতীয় শ্রেণি, স্যার জন উইলসন স্কুল, ঢাকা