ঈদকে সামনে রেখে ধুনটে চলছে অবাধ চাঁদাবাজি

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৪, ২২:১১
বগুড়ার ধুনট উপজেলার অভ্যন্তরীণ সকল রুটে ঈদের সামনে বেপরোয়াভাবে চলছে পরিবহন চাঁদাবাজি। স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথা বলে নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে এসব বাধ্যতামূলক চাঁদাবাজি। শ্যলোমেশিন চালিত ভটভটি ও নসিমন থেকে ১২টি স্পটে লোক রেখে চাঁদা আদায় চলছে। এছাড়া সিএনজি, অটোরিকশা, বাস, মিনিবাস ও ট্রাক থামিয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। উপজেলার ৯টি ষ্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন ৪ শত ভটভটি ও নসিমন বিভিন্ন রাস্তায় চলাচল করে। এসব যানবাহনের চালককে রাস্তায় ৩/৪ টি স্পটে চাঁদা দিতে হয়। প্রথমে তাদেরকে চেইন মাষ্টারকে ১০ টাকা দিয়ে ষ্ট্যান্ড থেকে গাড়ি বের করতে হয়। তারপর ১০ টাকা পৌর কর, মোটর শ্রমিকদের চাঁদা ১০ টাকা, দালাল অফিসে চাঁদা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে সেখানেও ১০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এভাবে ভটভটি চালককে প্রতিদিন বিভিন্ন সড়কে গড়ে ১০/১২ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে। ধুনট থেকে গোশাইবাড়ী রুটে চলাচলকারী ভটভটি চালক শুকুর আলী আক্ষেপ করে বলেন, ধুনট থেকে গোশাইবাড়ী বা ঢেকুরিয়া ১০ কিঃমিঃ রাস্তা যেতে যাত্রী বা মালামাল কমবেশি যাই হোক না কেন রাস্তায় ৫ জায়গায় ৫০ টাকা বাধ্যতামূলক চাঁদা দিতে হয়। আমরা প্রত্যেকে প্রতিদিন পৌরসভায় ১০ টাকা করে টোল দেই অথচ আমাদের কোন লাইসেন্স দেয়া হয় না। অবৈধ বলে সবাই আমাদের কাছ থেকে অবৈধ সুযোগ নেয়। ধুনট পৌরসভার সচিব শাহিনুর ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ভটভটি অবৈধ বলে লাইসেন্স দেয়া হয় না। তবে পৌরসভার রাস্তা ব্যহারের জন্য ভটভটি থেকে টোল আদায় করা হয় এবং বার্ষিক দেড় লাখ টাকায় আদায়কারীকে ইজারা দেয়া হয়েছে। ধুনট সিএনজি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান আনসারী বলেন, ধুনট থেকে বিভিন্ন রুটে ১শ’টি সিএনজি চলাচল করে। প্রত্যেক সিএনজি থেকে মালিক কল্যাণ সমিতির নামে ২০ টাকা, পৌরকর ৫ টাকা ও চেইন মাষ্টার ৫ টাকা করে আদায় করা হয়। তাছাড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন শাখা অবৈধভাবে রাস্তায় সিএনজি থেকে চাঁদা আদায় করে। এবিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাফফর হোসেন বলেন, রাস্তায় যানবাহন থামিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘটনা আমার জানা নেই। প্রমাণ পেলে তাত্ক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।