উখিয়ার উপকূলীয় এলাকা নিদানিয়া পয়েন্টে ভাটার টানে ভেসে আসা একটি ফিশিং ট্রলার সোমবার বিকালে উদ্ধার করেছে ইনানী পুলিশ। গত ১৮ জুলাই গভীর রাতে ৩ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ‘মোজাম্মেল’ নামের ওই ট্রলারটি সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিল বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিমত। ভেসে আসা এ ফিশিং ট্রলার নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
উপকূলীয় মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এমএ কাশেম জানান, গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে আনুমানিক ৩ শতাধিক যাত্রী নিয়ে চোয়াংখালী পয়েন্ট দিয়ে একটি ফিশিং ট্রলার মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার বিষয়টি উখিয়া থানা পুলিশকে জানানো হয়েছিল। এ ব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার অংসা থোয়াইয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওইদিন যাত্রীবোঝাই একটি ফিশিং ট্রলার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ তাত্ক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যায়। ততক্ষণে ফিশিং বোটটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার কারণে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ফিশিং ট্রলারে যেসব মালয়েশিয়াগামী যাত্রী ছিল, তারা সবাই রাজশাহী, বগুড়া, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ। ঝড়ের কবলে পড়ে গভীর সাগরে মালয়েশিয়া যাত্রীবোঝাই ফিশিং ট্রলারটি নিমজ্জিত হয়েছে বলে ধারণা করে তারা জানান, ট্রলারে যেসব যাত্রী ছিল হয়তো তাদের কেউ বেঁচে নেই।
ইনানী পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ হাবিব জানান, ‘মোজাম্মেল’ নামে ভেসে আসা একটি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। ওই ট্রলারটি মালয়েশিয়াগামী যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হয়েছিল বলে স্থানীয় লোকজন বলাবলি করছে। এ বিষয়ে আমার সঠিক তথ্য জানা নেই। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপকূলীয় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অজানা-অচেনা শ শ মানুষের ভিড় জমেছে ওই ট্রলারটি দেখার জন্য। তারা কেউ মুখ না খুললেও স্থানীয়রা জানান, নিখোঁজ মালয়েশিয়া যাত্রীর আত্মীয়-স্বজনেরা প্রিয়জনের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য উখিয়ার উপকূলে আসতে শুরু করেছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, আনোয়ার হোছাইন চৌধুরী জানান, এটা উপকূলীয় এলাকার জন্য নিত্যদিনের ঘটনা। সাগর পথে অহরহ মানুষ মালয়েশিয়া রওয়ানা হচ্ছে। এদের অনেকের খোঁজ-খবর পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না।
