বিসিএসে এমসিকিউ’র বদলে অন্য পদ্ধতি বিবেচনার সুপারিশ

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৪
মেধা যাচাইয়ের লক্ষ্যে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিকের (এমসিকিউ) পরিবর্তে অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা যায় কি-না, তা খতিয়ে দেখার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এছাড়া কোটার ভারে ভারাক্রান্ত না রেখে নিয়োগ বা পদোন্নতিতে কোটা ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে অবসরপ্রাপ্তদেরও পেনশন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টিও সিভিল সার্ভিস অ্যাক্টে সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর কমিটি গুরুত্বারোপ করেছে। গতকাল সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির বৈঠকের বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘সত্যিকারের মেধা যাচাইয়ের লক্ষ্যে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এমসিকিউয়ের পরিবর্তে অন্য কোনো মেধাভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা যায় কি-না, তা খতিয়ে দেখার সুপারিশ করা হয়।’ এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি এইচএন আশিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে আছি। কমিটি এ নিয়ে আরো একটি বৈঠক করবে। কমিটির সদস্য মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, কমিটির অধিকাংশ সদস্যই মনে করেন-বিসিএস পরীক্ষায় এমসিকিউ পদ্ধতি তুলে দেয়া উচিত। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে অংশ নেয়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামও এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। সংসদীয় কমিটির গতকালের বৈঠকে প্রস্তাবিত ‘পাবলিক সার্ভিস অ্যাক্ট’ নিয়েও আলোচনা হয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য কমিটি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর এবং ‘বেতন ও চাকুরী কমিশন-২০১৩’ এর চেয়ারম্যান ড. ফরাসউদ্দিনকে আমন্ত্রণ জানায়। সংসদীয় কমিটি সরকারি চাকুরেদের বেতন-পারিতোষিকে বেসরকারিদের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা, মেধা বা বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা বা পরীক্ষার ভিত্তিতে পদোন্নতি, পেনশন ভাতা বাড়ানোর বিষয়গুলো ‘সিভিল সার্ভিস অ্যাক্টে’ সুস্পষ্টভাবে রাখার মত দিয়েছে। বৈঠকে উত্তরাধিকার সূত্রে বা ক্রয়সূত্রে অথবা অন্যান্যভাবে প্রাপ্ত জনগণের মালিকানাধীন ভূমির নামজারিকরণ দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি এইচএন আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, মো. আব্দুল্লাহ ও খোরশেদ আরা হকও বৈঠকে অংশ নেন।