ফিলিস্তিন-ইসরাইলের মধ্যে সত্যিকারের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নোবেল বিজয়ী আরো কয়েকজন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এক খোলা বিবৃতিতে এ আহবান জানিয়েছেন তিনি। আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটির (এএফএসসি) ওয়েবসাইটে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়েছে।
এই বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্রুত যুদ্ধ বিরতি কার্যকর ও মৃত্যু রোধে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহবানের সঙ্গে আমরা নোবেল বিজয়ীরাও যুক্ত হয়েছি। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আমরা চলমান সহিংসতা বন্ধের পাশাপাশি সহিংসতার উত্স নির্ণয়ের আহবান জানাচ্ছি। ফিলিস্তিনের সীমানায় ইসরাইলের দখলদারিত্ব চলছেই। প্রায় ১১ লাখ ফিলিস্তিনি গাজাতে অবরুদ্ধ অবস্থায় বাস করছে। ২০১২ সালের যুদ্ধ বিরতির পর ইসরাইলে শান্ত অবস্থা আসেনি। আবার গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসনও বন্ধ হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের যুদ্ধে শান্তি অনুপস্থিত। শান্তির জন্য ন্যায় বিচারের উপস্থিতি, সমতা, অভিন্ন মানবতার স্বীকৃতি দরকার। শান্তি প্রতিষ্ঠায় যারা মধ্যস্থতা করবে তাদের একটি বিষয় দেখা উচিত। সেটা হলো ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের বলপ্রয়োগ। ১৯৮৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়াত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, কেবল একজন স্বাধীন মানুষই আলোচনায় যেতে পারে। কোনো বন্দি চুক্তিতে যেতে পারে না।
তারা বলেন, এখন ফিলিস্তিনিরা অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধ না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত সহিংসতা থামছে না। তাই মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা, আন্তর্জাতিক আইন অমান্যকারীদের বিচারের মুখোমুখি করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে করে সত্যিকারের শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়। এর মাধ্যমেই কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতা বিরাজ করতে পারে। ড. ইউনূসের সঙ্গে বিবৃতি প্রদানকারী অন্যরা হলেন, এএফএসসির জেনারেল সেক্রেটারি শন ক্রিটিন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ব্যুরোর কো-প্রেসিডেন্ট ইনগেবর্গ ব্রেইনিস, রিনার ব্রাউন এবং নোবেল বিজয়ী বেটি উইলিয়ামস, জডি উইলিয়ামস, মাইরিড কোরিগান মাগুয়ার, তাওয়াক্কল কারম্যান।
