এসআই জাহিদ আজ জবানবন্দি দিতে পারেন

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৪, ২৩:০৩
মিরপুরে পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ী মাহবুবর রহমান সুজন হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার এসআই জাহিদুর রহমান খান আজ বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে পারেন। প?াঁচ দিনের রিমান্ডে তিনি ব্যবসায়ী সুজনকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার কথা ডিবি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, এ হত্যার বিষয়টি পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ ও মিরপুর থানার ওসি সালাউদ্দিন খান জানতেন বলে জাহিদ জানিয়েছেন। চাঁদার দাবিতে তিনি পুলিশ সোর্সদের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের থানায় ধরে এনে নির্যাতন চালাতেন। টাকা দিলেই তিনি তাদের ছেড়ে দিতেন। চাঁদাবাজির ভাগ তিনি পুলিশ সোর্সদের পাশাপাশি প্রতি মাসে গড়ে ৫ লাখ টাকা দিতেন থানার ওসিকে। বিষয়টি পুলিশের মিরপুর বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারাও জানতেন। এসব বিষয়ে তার জবানবন্দি দেয়ার কথা রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে কোনো কারণে তিনি জবানবন্দি দিতে রাজি না হলে তাকে ফের রিমান্ড নেয়ার আবেদন জানাবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ১২ জুলাই রাতে ঝুট ব্যবসায়ী সুজন, তার স্ত্রী মমতা, সন্তান মোশারফকে ধানমন্ডির শংকরের বাসা থেকে আটক করে মিরপুর থানায় নেন জাহিদ। থানার একটি কক্ষে সুজনকে আটকে রেখে বেধড়ক পেটানো হয়। এরপর ভোরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ১৬ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৭ জুলাই মিরপুর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার জাহিদ ও গ্রেফতারকৃত সোর্স নাসিম শেখকে পাঁচ দিনের রিমান্ড নেয় ডিবি। মঙ্গলবার ছিল এই দুইজনকে রিমান্ডে নেয়ার চতুর্থ দিন। তদন্ত সূত্র জানায়, পাঁচ দিনের রিমান্ডে ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসআই জাহিদকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, থানায় হাত-পা বেঁধে সুজনের নাকে পানি দিয়ে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। এক পর্যায়ে মেঝেতে পড়ে গেলে তার মাথা বুট জুতা দিয়ে থ্যাঁতলানো হয়। দুই পায়ের হাঁটুতে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। বুকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে ক্রমেই তার চিত্কার ক্ষীণ হয়ে আসে। এক পর্যায়ে থানাতেই সুজন মারা যান। সুজনকে গ্রেফতার অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই থানার ওসি সালাউদ্দিন খান অবগত ছিলেন বলে জানান এসআই জাহিদ। তিনি আরো জানান, নির্যাতনের পর থানায় মারা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদের সাথে ওসি নিজেই কথা বলেছেন। উপ-কমিশনার বিষয়টি অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছে বলে সাজাতে বলেন। এজন্য নিহত সুজনকে অসুস্থ বলে মিরপুরের লতিফ ক্লিনিকে নেয়া হয়। সেখানে চিকিত্সকরা এক দফা মৃত ঘোষণা করলে আবারও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে লাশ পরে পুলিশের গাড়িতে করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রেখে যাওয়া হয়। এসব ঘটনার উল্লেখ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য এসআই জাহিদকে বলা হয়েছে বলে ডিবির মামলা তদন্তকারী একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। জাহিদ প্রাথমিকভাবে এতে রাজি হয়েছেন। রিমান্ডে থাকা পুলিশের সোর্স নাসিম শেখও জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাকেও বুধবার আদালতে হাজির করা হবে। এদিকে, সুজন হত্যা মামলার আসামি তিন পুলিশ সদস্য ও তিন সোর্স এখনও পলাতক রয়েছেন। ডিবির একজন সহকারী কমিশনার বলেন, তাদের গ্রেফতারে নানামুখী তত্পরতা চলছে। শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। এছাড়া ঝুট ব্যবসায়ী মোহন, সন্ত্রাসী বাবু ও মাসুমকে পুলিশ খুঁজছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সূত্র। অন্যদিকে, নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী মমতা সুলতানা লুসিকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ডেকেছে পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি। মঙ্গলবার রাতেই পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জসীম উদ্দিনের কার্যালয়ে তার সাক্ষ্য দেয়ার কথা। নিহতের ভাই নজরুল ইসলাম শামীম জানান, এসআই জাহিদের ফাঁসির দাবিতে বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। জাহিদের নির্যাতনে নিহত সুজন ও পল্লবীর জনির পরিবারের সদস্যরা এতে উপস্থিত থাকবেন। তিনি অভিযোগ করেন বলেন, সুজনকে হত্যার ঘটনায় মিরপুর থানার ওসি সালাহউদ্দিন খান জড়িত থাকলেও পুলিশের মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি। এ কারণে ওসিসহ জড়িত সবাইকে আসামি করে আদালতে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওসির বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।