গ্ল্যামার পেশা মডেলিং

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৪, ২১:২৬
মডেলিং পেশা নিয়ে এখনকার তরুণ-তরুণীদের আগ্রহের কমতি নেই। তবে সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে অনেকেই এ পেশায় আসতে পারছেন না। অনেকে হয়তো ভুল পথে পা বাড়িয়ে বা সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে এ পেশাকে অন্যরকম দৃষ্টিতে দেখছেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা যে কাজই করি না কেন আমাদের ইচ্ছা শক্তি থাকতে হবে শতকরা একশ ভাগ। তাই যারা মডেলিং করতে চায়, তাদের প্রথমেই স্থির করতে হবে মডেলিংয়ের কোন সেক্টরে কাজ করবে—র্যাম্প, প্রিন্ট না টিভি। যাদের উচ্চতা একটু বেশি, তারা র্যাম্পে কাজ করতে পারে। এমন বিভিন্ন ধরনের মডেলিংয়ের জন্য প্রয়োজন ভিন্ন ভিন্ন যোগ্যতা। মডেল হতে চাইলে প্রথমে কী করতে হবে, কোথায় কোথায় যোগাযোগ করতে হবে এবং নতুন মডেলদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু টিপস নিয়ে লিখেছেন সানজিদা সুলতানা শারীরিক ফিটনেস ও সৌন্দর্য মানুষের শারীরিক ফিটনেস এবং সৌন্দর্য বিষয়টি যতটা জন্মগত, তার চাইতে অনেক বেশি চর্চার। আমরা পথে-ঘাটে যত সুন্দর বা সুন্দরীই দেখি না কেন, চুলচেরা বিশ্লেষণে তারা তেমন কিছুই নন। তারপরও আমরা তাদের দিকে তাকিয়ে থাকি তাদের বেশভূষা, চুলের স্টাইল, হাঁটাচলা, দাঁড়ানোর ভঙ্গি এইসব জিনিসের কারণে। আমরা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে বিভিন্ন চেহারার মডেল দেখি। এদের সবারই দেহসৌষ্ঠব একইরকম আকর্ষণীয় নয়। তবে একটা বিষয় সকলের জন্যই এক—তাদের সকলের শারীরিক ফিটনেসই যথাযথ। তাই মডেল হতে চাইলে প্রথমেই শারীরিক ফিটনেসের দিকে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি সৌন্দর্যের চর্চাও করতে হবে। আত্মবিশ্বাস শারীরিক ফিটনেসের পর প্রয়োজন হবে বসা, দাঁড়ানো, হাঁটাচলার ভঙ্গি ঠিক করা, এক্সপ্রেশন দেওয়া। ঢাকাতে এখন বেশ কয়েকটি ট্রেনিং স্কুল ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবেও অনেকেই বিষয়গুলোর চর্চা করিয়ে থাকেন। এসব জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যাবে মডেলিংয়ের দিকে। তবে প্রশিক্ষণের চাইতেও বেশি যে জিনিসটির প্রয়োজন, তা হলো আত্মবিশ্বাস। প্রশিক্ষক কেবল আপনাকে শিখিয়ে দিতে পারে কীভাবে আপনি চলবেন বা কথা বলবেন। চলা বা কথা বলার কাজটি আপনাকেই করতে হবে। এর জন্য নিজে নিজেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চর্চা করতে পারেন। প্রতিষ্ঠিত মডেলদের কাউকে অনুসরণও করতে পারেন। নিজের ওপর বিশ্বাস থাকলে নিশ্চিত তাতে সাফল্য লাভ করতে পারবেন। আপনি যখন এ পেশায় আসার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছেন, তখন আপনি নিশ্চয়ই জানেন আপনার মতো আরও অনেকে সেই চেষ্টা করে চলেছেন। তাই সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য আপনাকে একটু বেশিই চেষ্টা করতে হবে। দেশি-বিদেশি মডেলের ছাপা ছবি, টিভির পর্দায় বিভিন্ন মডেলদেরকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে হবে যাতে করে আপনি অন্যদের ছাড়িয়ে যেতে পারেন। তাদের দেখেই আপনার অভিব্যক্তি, হাঁটাচলার ভঙ্গি, কথা বলার স্টাইল, আচরণ প্রভৃতিতে এমন কিছু গড়ে তুলতে হবে যাতে আপনি যথেষ্ট সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারেন। মনে রাখবেন, সফল মডেল হতে হলে প্রথমে আপনার নিজেরই বিশ্বাস করতে হবে যে আপনি শীর্ষ মডেলদের একজন হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। অভিনয় ক্ষমতা আত্মবিশ্বাসের পর আপনি হয়তো ভাবছো আপনার সব সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে। কিন্তু আপনি কি অভিনয় করতে পারেন বড় বড় অভিনেতাদের মতো যারা চোখের পলকেই হাসতে জানেন এবং হাসাতে জানেন, কাঁদতে জানেন এবং কাঁদাতে জানেন? আপনি যেমন মডেলই হোন না কেন, অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলা বা এক্সপেশনে আপনাকে দক্ষ হতেই হবে। পোর্টফোলিও তৈরি ওপরের কাজগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর আপনাকে একটা পোর্টফোলিও তৈরি করতে হবে। পোর্টফোলিওর প্রথম চাহিদা হচ্ছে ফটোসেশন। এর জন্য ভালো কোনো ফটোগ্রাফার দিয়ে ফটোসেশন করিয়ে নিতে হবে। আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে মিল রেখেই ফটোসেশনের জন্য পোশাক ও স্টাইল নির্বাচন করুন। ফটোসেশন করা হয়ে গেলে পোর্টফোলিওতে আপনাকে আপনার জীবন বৃত্তান্ত বা সিভি দিতে হবে। সিভিতে ব্যক্তিগত সব তথ্যের সাথে সাথে যোগাযোগের ঠিকানা এবং নম্বরও যোগ করতে হবে। আর অভিজ্ঞতার তথ্যও যুক্ত করতে ভুলবেন না। খরচপাতি ফটোসেশন করারজন্য অবশ্যই অবশ্যই ভালো মানের ফটোগ্রাফারকে বেছে নিতে হবে। ফটোগ্রাফারদেরর চার্জ একেকজনের জন্য একেকরকম। তবে সাধারণত ফুল রিল ছবি তুলতে খরচ পড়বে সাড়ে চার হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা। আর ফুল রিল ছবি তুলতে খরচ আড়াই হাজার টাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। এর সাথে হিসাব করতে হবে প্রিন্ট ও মেকআপের খরচ। যোগাযোগ ছবি তোলা শেষ হয়ে গেলে পোর্টফোলিও নিয়ে যোগাযোগ করতে হবে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থার সাথে। এক্ষেত্রে আপনাকে হতে হবে সচেতন। কারণ আজকাল পত্রিকায় মডেল বানানোর নামে ঠিকানাবিহীন অনেক চটকদার বিজ্ঞাপন দেয়। সেখানে নতুন ছেলেমেয়েরা গিয়ে প্রতারিত হয়। তাই ভুল পথে পা না বাড়িয়ে আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে নামকরা বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোতে। আরও কিছু টিপস - নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে মনোযোগী হতে হবে। - পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিনিয়তই ভাবতে হবে নিজেকে নতুন কী করে উপস্থাপন করা যায়। - কমিটমেন্টের জায়গাগুলো ঠিক রাখতে হবে এবং সময় মেইনটেইন করে চলতে হবে। - থাকতে হবে নিবেদন, অধ্যাবসায় এবং গন্তব্য।