সিলেট বিএনপির গ্রুপিং রাজনীতি ফের তুঙ্গে। কিছুদিন আগে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছাত্রদল নেতা জিল্লুল হক জিলু খুন হওয়ার পর বিএনপির দু’টি গ্রুপ ও তাদের মদদপুষ্ট ছাত্রদল পরস্পরকে ঘায়েল করতে হামলা ও পাল্টাপাল্টি মামলায় নেমেছে। গত সপ্তাহে মহানগর বিএনপির সভাপতি এমএ হকের বাসায় রাতের বেলা হাতবোমা নিক্ষেপ হয়েছে। এজন্য বিএনপির একপক্ষ আরেক পক্ষকে দায়ী করছে। দলের একাধিক নেতা জানান, মাঝখানে কিছুদিন দ্বন্দ্ব-কোন্দল কিছুটা কম ছিল। কিন্তু সমপ্রতি আবার কোন্দলে জর্জরিত হয়ে পড়েছে বিএনপি। এই অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ঈদের পরে সকল দ্বন্দ্ব- কোন্দল ভুলে সারাদেশে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার হটানোর আন্দোলনে নামার যে ঘোষণা দিয়েছেন সিলেটে সেই কর্মসূচি পালন ও তার সফলতা নিয়ে দলের অনেক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী-সমর্থক সন্দিহান। হতাশার সুরে তারা বলেন, সিলেটে দলের যে অবস্থা তাতে এখানে আন্দোলন সফল হওয়ার লক্ষণ নেই। অনেকে এম ইলিয়াস আলীর শূন্যতার কথা তুলে ধরে বলেন, কঠোর আন্দোলন-সংগ্রামে তার মতো নেতা প্রয়োজন। কিন্তু এখন ইলিয়াস আলীকে ফিরে পাওয়ার আন্দোলনও ঝিমিয়ে পড়েছে।
সিলেটে বিএনপি দুই ধারায় বিভক্ত বহু বছর ধরে। অতীতে একপক্ষ অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের এবং আরেকপক্ষ এম ইলিয়াস আলীর অনুসারী হিসেবে কাজ করেছে। সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর তার অনুসারীদের অনেকে ইলিয়াসের গ্রুপে ভিড়েন। তবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী সিলেটের রাজনীতিতে সক্রিয় হলে সাইফুর অনুসারীরা তার কাছে ঘেঁষেন। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর তার অনুসারীরা কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এখন ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা তাদেরকে নানা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। দলীয় সূত্র জানায়, ইলিয়াসের অনুপস্থিতি ও কোন্দলের কারণে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সিলেটে বিএনপির আন্দোলন হয়েছে নামমাত্র। জেলা ও মহানগর বিএনপির অধিকাংশ শীর্ষ নেতা নিজ নিজ গ্রুপের কতিপয় কর্মী নিয়ে রাজপথে নেমে ফটোসেশন করেই বাসায় ফিরে গেছেন। আন্দোলনে ব্যর্থতার জেরে জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে এম নুরুল হককে আহবায়ক করে নতুন কমিটি হয়েছে। দাবি উঠেছে মহানগর বিএনপির কমিটিও ভেঙ্গে দেয়ার। সূত্র জানায়, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরীকে আবারো মহানগরের শীর্ষপদে ফিরিয়ে আনা হতে পারে। একারণে আরিফুল হকের অনুসারীরাও এখন বেশ চাঙ্গা।
দলীয় সূত্র জানায়, গত ২৭ জুন গ্রুপিংয়ের জেরে ছাত্রদল নেতা জিল্লুল হক জিলু খুন হওয়ার পর কোন্দল ফের চরমে উঠে। জিলু আগে সিলেট ছাত্রদলের মিজান গ্রুপের সাথে ছিল। কিছুদিন আগে গ্রুপ বদল করে জামান গ্রুপে যোগ দেয়। একারণে মিজান গ্রুপের ক্যাডাররা সন্ধ্যারাতে জিলুকে নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকেই দ্বন্দ্ব-সংঘাতে উত্তাল সিলেট বিএনপির ঘরের রাজনীতি। গত বৃহস্পতিবারও নগরীর মীরবক্সটুলায় এই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, বোমাবাজি হয়েছে। এরপর একপক্ষ আরেকপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা-পাল্টি মামলা করেছে। মিজান গ্রুপের ছাত্রদল নেতা জিয়াউল গণি আরেফিন জিল্লুর, ওমর আশরাফ ইমন ও সাফেক মাহবুব দু’দিন আগে এক বিবৃতি দিয়ে তাদের প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতা স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ ীয় সহ-সভাপতি সামসুজ্জামান জামান ও ছাত্রদলের কেন্দ ীয় নেতা আব্দুল আহাদ খান জামালকে আওয়ামী লীগের এজেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এর জবাবে জামান-জামাল গ্রুপের ছাত্রদল নেতা ফয়জুল কয়েস, মতিউল বারী চৌধুরী খোর্শেদ, রাহাত চৌধুরী মুন্না, শাহ আলম, আজিজুল হোসেন আজিজ ও রাশেদ আহমদ এক যৌথ বিবৃতি দিয়ে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান, ছাত্রদল নেতা জিল্লুর, সাফেক ও ইমনকে জাসদ থেকে বিএনপিতে অনুপ্রবেশকারী ও বর্তমান সরকারের এজেন্ট আখ্যায়িত করে বলেন, এরা দলকে ধ্বংসের নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
সিলেট বিএনপির কোন্দল ও আন্দোলন প্রস্তুতি নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় সদস্য, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সকল কর্মী ঈদের পরে বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে রাজপথে সর্বাত্মক আন্দোলনে নামার অপেক্ষায় এখন প্রস্তুত।
