ঈদে একটি উল্লেখযোগ্য মানুষ যখন লম্বা লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে সোনার হরিণের মতো টিকেট সংগ্রহ করে, হাজারো ঝুক্কি-ঝামেলা সামলে নাড়ির টানে গ্রামে যায়, তখন এক শ্রেণীর মানুষ ব্যস্ত হয় বিদেশ বিভূঁইয়ে ঈদ করার আয়োজনে। দুই শ্রেণির মানুষ ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বাইরে ঈদ করে এবং ক্রমেই তার সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জড়িতরা। তাদের মতে ঈদ উপলক্ষে প্রায় পাঁচ থেকে সাত লাখ মানুষ দেশের বাইরে যায়। এই সময় অনেক ট্রাভেল এজেন্ট বিশেষ প্যাকেজেরও আয়োজন করে থাকে। তারা জানান এবার ঈদের ছুটি লম্বা হওয়ায় চাপটাও বেশি। তাই ২৫ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা-ব্যাংকক রুটে কোন সিট খালি নেই। আনান সাফিয়ানের বয়স ৮, থাকে মালিবাগে। বাবা অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি করেন। ঈদের দিন রাতে আনান ও তার মা যাবেন সিঙ্গাপুরে। আনানের বাবা সেখানে আসবেন। একসাথে বেড়াবেন তারা পুরো সপ্তাহ। মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম চাঁদনীচকে ব্যবসা করেন। ঈদের ছুটিতে ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রীসহ বেড়াতে যাচ্ছেন মালোয়েশিয়াতে। ৪ দিনের ট্যুর তাদের। এর আগেও ঈদের ছুটিতে তারা দেশের বাইরে বেড়াতে গেছেন। রফিকুল ইসলাম বলেন, বাবা নেই। মা থাকেন সব ভাই-বোনদের বাসায়। তাই এমনিতে পরিবারকে সময় দিতে না পারলেও ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে দূরে কোথাও ঘোরার চেষ্টা করেন তিনি। কক্সবাজারসহ দেশের দর্শনীয় স্থান যেমন থাকে তার ঘোরার তালিকায়। তেমন চেষ্টা থাকে সাধ্যের মধ্যে আশেপাশের দেশে যাওয়া।
এমন অনেকেই ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বাইরে বেড়াতে যান বলে জানান গ্লোকম ট্রাভেলের স্বত্বাধিকারী মোঃ হুমায়ুন কবীর। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ঈদ উপলক্ষে দুটি শ্রেণিতে মানুষ দেশের বাইরে যান। এক শ্রেণির মানুষ যান ইউরোপ আমেরিকায় আর অপর শ্রেণির টার্গেট থাকে পার্শ্ববর্তী নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত প্রভৃতি দেশ। তাই এসময় অনেক এজেন্সি বিশেষ প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করে। এই বিষয় ট্যুরিজম ডেভলপার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিডাব) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জামিউল আহমেদ বলেন, সারা বছর ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ দেশের বাইরে যায়। এর মধ্যে ৫ থেকে ৭ লাখ মানুষ ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশ ছাড়েন। অধিকাংশ দেশে ট্যুরিজম স্যাটেলাইট একাউন্টের মাধ্যমে এ বিষয় সঠিক পরিসংখ্যান জানা গেলেও আমাদের আনুমানিক বলতে হয়। কারণ আমাদের ট্যুরিজম স্যাটেলাইট একাউন্টের ব্যবস্থা নাই।
তিনি বলেন, দেশের কিছু কিছু এয়ারলাইন্স বিদেশি কিছু হোটেলের সাথে যৌথভাবে এসময় প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিমান যাত্রার টিকিটসহ হোটেলে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাসহ সেই হোটেলে দুই/তিন রাত্রিযাপন, সকালের নাস্তা প্যাকেজ ট্যুর আওতায় থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে আধাবেলা নগর ভ্রমণও তারা অন্তর্ভুক্ত করেন। তবে এমন উন্নত সেবা শতকরা পাঁচ শতাংশের মতো প্যাকেজে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশ ও সেবা ভেদে আমাদের দেশে ত্রিশ/ছল্লিশ হাজার টাকা থেকে ৩/৪ লাখ টাকা পর্যন্ত এসব প্যাকেজ ট্যুর আয়োজন করা হয় বলে জানান মোহাম্মদ জামিউল আহমেদ। ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) এর প্রেসিডেন্ট তৌফিকউদ্দিন আহমেদ এই বিষয় ইত্তেফাককে বলেন, ঢাকা-কলকাতা দুইদিনের প্যাকেজে জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা হলে ঢাকা ব্যাংককের ক্ষেত্রে হবে ৪০ হাজার টাকা। তৌফিক জানান, তাদের ২৫০ সদস্য সংস্থার মধ্যে ৫০টি সংস্থা ঈদ উপলক্ষে প্যাকেজ ট্যুরের আয়োজন করছে। তার মধ্যে গ্লাক্সি হলি ডে, এ্যামেজিং হলি ডে, এশিয়ান হলি ডে, ডিসকভারি ট্যুরিজম প্রভৃতি ট্যুর অপারেটর বিশেষ প্যাকেজের আয়োজন করেছে। তিনি বলেন, কিছুদিন পূর্বেও ঈদের পরে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রচলন বেশি থাকলেও এখন ঈদের আগেই তা বাড়ছে। তিনি জানান ২৫ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা-ব্যাংকক রুটে কোন সিট খালি নেই।
