স্বতন্ত্র এমপি ডা. ফরাজী আর সরকার বিরোধী বক্তব্য দেবেন না

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৪, ২২:৪১
তিন দিন ধরে মঠবাড়িয়া সদরে চলমান উত্তেজনা নিরসনে স্বতন্ত্র এমপি ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী’র পক্ষ ও আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে গতকাল বুধবার এক সমঝোতা বৈঠক হয়েছে। এমপি ভবিষ্যতে সরকার বিরোধী কোন বক্তব্য স্থানীয় মঞ্চে রাখবেন না, বৈঠকে এই শর্ত মেনে নিয়েছেন তাঁর প্রতিনিধিরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিবের অফিস কক্ষে দুপুরে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আওয়ামী লীগ নেতা সাকিল আহমেদ নওরোজ ও যুবলীগ আহ্বায়ক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর সরকার দল এবং এমপি’র ছোট ভাই ইব্রাহীম খলিল ফরাজী ও স্থানীয় একটি কলেজের অধ্যক্ষ আজিমুল হক ডা. ফরাজীর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন। মঠবাড়িয়া থানার ওসি নাসির উদ্দিন মল্লিক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বাদশা, আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুল হক প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কিছু দিন আগে এমপি’র এক সমর্থকের পায়ের রগ কেটে দেয়ার মামলায় গত সোমবার ছাত্রলীগ নেতা মামুনুর রশীদ পিঞ্জুকে গ্রেফতারের প্রেক্ষিতে রাতে একদল ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মী থানা ঘেরাও করে। তাদের চাপের মুখে মামুনকে রাতে জামিন দিয়ে পরে আবার গ্রেফতার করে পরের দিন মঙ্গলবার পুলিশ আদালতে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং স্থানীয় ডাকবাংলায় জড়ো হওয়া রুস্তুম ফরাজী’র কর্মী-সমর্থকদের ধাওয়া দিলে এক দারোগাসহ ৭/৮ জন আহত হয়। এ হামলার সময় এমপি ফরাজী ডাকবাংলার দোতলায় এক সংবাদ সম্মেলন করছিলেন। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার থেকে মঠবাড়িয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাবের পাহারা বাড়ানো হয়েছে। সমঝোতা সভায় অংশগ্রহণকারী একজন কর্মকর্তা জানান, এমপি’র ভাই এই মর্মে নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে ডা. ফরাজী ভবিষ্যতে স্থানীয় কোন সভা-সমাবেশে বা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় সরকার ও সরকারি দল সম্পর্কে কোন সমালোচনামূলক বা বিরোধিতাপূর্ণ বক্তব্য দেবেন না। হাজতে থাকা ছাত্রলীগ নেতা মামুনের মুক্তির ব্যাপারেও মামলার বাদি আদালতে জবানবন্দি দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনার উদ্যোগ নেবেন।