ইসরাইলকে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত করার হুমকি জাতিসংঘের

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৭
ইসরাইলকে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত করার হুমকি দিয়েছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক এই সংস্থার মানবাধিকার বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা নাভি পিল্লাই গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের নিন্দা করে বলেছেন, এই অভিযানে ইসরাইল যা করেছে তা যুদ্ধাপরাধ হিসাবে গণ্য হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও কানাডা মঙ্গলবার ইসরাইলগামী ও ইসরাইল থেকে ছেড়ে আসা অধিকাংশ ফ্লাইট বাতিল করেছে। খবর বিবিসির। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের জরুরি এক বৈঠকে নাভি পিল্লাই বলেছেন, গাজায় বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার জন্য ইসরাইলি সামরিক অভিযান যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। ইসরাইলের ওপর নির্বিচার হামলা চালানোর জন্য তিনি হামাসেরও নিন্দা করেছেন। গাজায় ইসরাইল তার অভিযান শুরু করে ৮ই জুলাই এই ঘোষণা দিয়ে যে গাজা থেকে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে চালানো রকেট হামলা প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে তারা এই অভিযান চালাচ্ছে। ‘ইসরাইল যেভাবে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে তা যুদ্ধাপরাধ হিসাবে গণ্য হতে পারে এমন সম্ভাবনা কার্যত খুবই জোরালো বলে উল্লেখ করেন নাভি পিল্লাই। তবে ইসরাইল দাবি করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল পক্ষপাতদুষ্ট এবং ইসরাইল জানিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘ অনুমোদিত কোনো তদন্তে তাদের সহযোগিতা করার সম্ভাবনা নেই। গত ১৫ দিনের অভিযানে অন্তত প্রায় ৬৫০ জন ফিলিস্তিনি এবং ১৩ জন ইসরাইলি প্রাণ হারিয়েছে বলে কর্মকর্তারা বলছেন। গাজা ভূখন্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি স্থল আক্রমণে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফিলিস্তিনি একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, ইসরাইল সীমান্তবর্তী খুযায় ১১জন মারা গেছে এবং চার হাজারের ওপর ফিলিস্তিনি সাদা পতাকা উড়িয়ে এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন। খান ইউনুসে তুমুল লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। খান ইউনুসে এক বিমান হামলায় অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একজন ইসরাইলি সৈন্যও মারা গেছে। ইতোমধ্যে সহিংসতার অবসান ঘটানোর জন্য জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গতকাল ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি নেতাদের সঙ্গে ওই এলাকায় বৈঠক করছেন। তিনি বলেছেন যুদ্ধবিরতির পথে কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি। এদিকে, গাজা থেকে ছেড়ে আসা একটি রকেট তেলআবিবে ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হানার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফ্লাইট বাতিল করে। গত সপ্তাহে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে মালয়েশিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান ক্ষেপনাস্ত্রেও আগাতে ভূপাতিত হলে ২৯৮ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়। ইসরাইল ও গাজায় সশস্ত্র সংঘাতের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য ঝামেলাপূর্ণ পরিস্থিতির উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টার জন্য তেলআবিব থেকে ছেড়ে আসা মার্কিন ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। এফএএ জানায়, বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন অপারেটরদের সকল ফ্লাইট কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে লন্ডন ভিত্তিক ইজিজেট জানায়, তারা তেলআবিবগামী ও তেলআবিব থেকে ছেড়ে আসা ফ্লাইট ২৪ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করেছে। এছাড়া গ্রীসের ইগিয়ান এয়ারলাইন্স এক টুইটার বার্তায় এথেন্স ও তেলআবিবের মধ্যে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করার কথা জানিয়েছে। ইউরোপীয় এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তেলআবিব এড়াতে ইউরোপের সকল এয়ারলাইন্সকে নির্দেশ দিয়েছে। ইউরোপের ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়া অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মধ্যে রয়েছে এয়ার ফ্রান্স, লুফত্হানসা ও কেএলএম রয়্যাল ডাচ।