বিদায় মাহে রমজান

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৭
আজ ২৫ রমজান। রমজান মাস মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে এক সমান্তরালে দণ্ডায়মান হবার মাস। আত্ম অনুভবে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করবার মাস, কলহ-বিবাদ বর্জিত একটা শান্তির দুনিয়া গড়বার মাস। হাদীস শরীফে এই মাসকে সহমর্মিতার মাস বলা হয়েছে। যেসব কারণে মানব চরিত্র বিনষ্ট হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গীবত বা পরনিন্দা। গীবত এক জঘন্যতম অপরাধ। এই অপরাধ কর্ম হতে যে ব্যক্তি আত্মরক্ষা করতে পারে সে অবশ্যই মানবতার মহা সড়কে বিচরণ করতে সমর্থ হয়। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে: ওহে তোমরা যারা ঈমান এনেছো! তোমরা বহুবিধ অনুমান হতে দূরে থেকো, কেননা কোনো কোনো অনুমান পাপ এবং তোমরা একজন অন্য একজনের গোপনীয় বিষয়ের সন্ধান করো না এবং একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা করো না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশ্ত ভক্ষণ করতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরাতো এটা ঘৃণ্যই মনে করো। তোমরা আল্লাহেক ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু (সূরা হুজুরাত: আয়াত ১২)। গীবত বা পরনিন্দা ব্যভিচারের চেয়েও মারাত্মক পাপের। হাদীস শরীফে আছে: গীবত ব্যভিচার হতেও মারাত্মক, কারণ তওবা করলে ব্যভিচারের পাপ মাফ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু যার গীবত করা হয়েছে, সে যদি মাফ না করে তবে আল্লাহ্ গীবতের পাপ মাফ করবেন না। এখানে উল্লেখ্য যে, হক্কুল্লাহ্ অর্থাত্ আল্লাহ্র হক আদায় না করার কারণে যে গোনাহ্ বা পাপ হয় তা আল্লাহ্ রহমানুর রহিমের নিকট তওবা-ইস্তিগফার করলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন, কিন্তু হক্কুল ‘ইবাদ অর্থাত্ বান্দার হক আদায় না করলে যে গোনাহ্ হয় তা যার হক নষ্ট করা হয়েছে, সে মাফ না করলে আল্লাহ্ মাফ করেন না। গীবত করনেওয়ালা অর্থাত্ পর নিন্দুকের পাপ এতোই বড়; এই পাপের কারণে তাকে আখিরাতে হুতামা নামক জাহান্নামে যেতে হবে। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে: হুতামা কি, তাকি তুমি জানো? এটা আল্লাহ্র প্রজ্বলিত হুতাশন যা হূদয়কে করবে গ্রাস, নিশ্চয়ই তা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে প্রলম্বিত স্তম্ভসমূহে। (সূরা হুমাযা: আয়াত ৫-৯)। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে: কেউ কোনো দোষ বা পাপ করে পরে তা কোনো নির্দোষ ব্যক্তির প্রতি আরোপ করলে সে মিথ্যা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে। (সূরা নিসা: আয়াত ১১২)।