সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে হচ্ছে প্রথম আবাসিক প্রকল্প

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৮
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এবারে ঢাকায় হচ্ছে ‘আধুনিক আবাসন প্রকল্প’। পরিপূর্ণ একটি আধুনিক শহরের আদলেই মধ্যবিত্তের জন্য স্বপ্নের ঠিকানা নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। বিশাল এই আবাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন হবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তদারকি ও রিহ্যাবের উদ্যোগে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রিয়েল এস্টেট ও হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দেনদরবার করে আসছে। রিহ্যাবের মতে, অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে তা হবে পরিকল্পিত এবং মানসম্মত। তাতে গ্রাহকরাও তাদের সাধ্যের মধ্যে আবাসন সুবিধা ভোগ করতে পারবে। সরকারি পর্যায়ে এর গুরুত্ব অনুধাবন করে মিরপুরের কালশীতে জমি চিহ্নিত এং শহরের মধ্যেই ‘আধুনিক আবাসিক শহর’ নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পিপিপি’র তালিকায়ও রয়েছে প্রকল্পটি। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে চারশ’ বিঘা জমিতে আবাসন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে শুরুতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলকভাবে তাদের নিজস্ব ৫ একর ভূমিতে হচ্ছে একটি ‘স্যাটেলাইট টাউন’। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে নির্মাণের লক্ষ্যে নির্বাচিত উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান এখন বিস্তারিত সম্ভাব্যতা এবং নকশা প্রণয়ন ও দরপত্র দলিল প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪টি মডেল উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এসব মডেল নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকও হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ১৪ তলা বিশিষ্ট ১০ টি ভবন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। যার প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন হবে প্রায় ১১১৯০ বর্গফুট। এই টাউনশীপের সম্ভাব্য নাম ‘রিহ্যাব সেকেন্ড হোম’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সূত্রগুলো বলেছে, মূলত: মধ্যবিত্ত ও স্বচ্ছল শ্রেণীর মানুষের জন্য রিহ্যাব সদস্যগণ যৌথভাবে এই পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারই ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ঢাকা শহরের বর্তমান জনসংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি। ঢাকা প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ায় জনসংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। জাতিসংঘের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে এ দেশের জনসংখ্যা ২৫ কোটিতে পৌঁছাবে, এ থেকেই ঢাকা শহরের ভবিষ্যত্ জনসংখ্যার একটি চিত্র পাওয়া যায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে নতুন বাসস্থানের। তাই ঢাকা শহরে বাসস্থান বেড়ে যাচ্ছে খুব দ্রুতগতিতে। জনসংখ্যা যত বাড়ছে, বাড়ির সংখ্যা তত বাড়ছে। তাই এর গুণগত মান সঠিক রাখার দিকে মনোযোগী হয়ে উঠছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সাথে রয়েছে বেসরকারি উদ্যোগ। আবাসন খাতে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ এ খাতকে করবে আরো গতিশীল এবং মধ্যবিত্তের জন্য তুলনামূলক কম খরচে করা যাবে স্থায়ী আবাসন। ‘আধুনিক আবাসিক শহর’ প্রকল্পের পিপিপি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে রিহ্যাব এর ব্যবস্থাপনা অংশীদারের ভূমিকা পালন করবে। প্রতিটি এপার্টমেন্টের আকার ধরা হয়েছে ১৩৯৮ বর্গফুট। সূত্রমতে, একটি সমন্বিত নীতির মাধ্যমে রিহ্যাবের প্রায় ৪শ’ সদস্য প্রাথমিক অবস্থায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অংশ নেবে। যাতে সংগঠনের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়। কারণ এখাতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে সমপ্রতি আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে পিপিপি প্রকল্পে শুধুমাত্র দেশীয় আবাসন শিল্প উদ্যোক্তারাই সুযোগ পাবেন। রিহ্যাব সংশ্লিষ্টরা জানান, মানুষের মৌলিক চাহিদা বাসস্থানও পিপিপির আওতায় যদি করা যায়, তাহলে একটি নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত হবে। তাদের মতে, এখানে রিহ্যাবের সদস্যদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে। দ্রুতবর্ধনশীল এই শহরে যে হারে মানুষ বাড়ছে, সে হারে পরিকল্পিত আবাসন না হলে সামাল দেয়া যাবে না। সেই দিক থেকেও এই প্রকল্প কার্যকর হবে। তদুপরি স্বল্পমূল্যে মধ্যবিত্তের স্বপ্নসাধও পূরণ হবে। বিশিষ্ট উন্নয়ন বিশ্লেষক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কোন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেখানে জনগণের চাহিদার প্রতিফলন ঘটানো যায়। পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে অপচয় ও দুর্নীতির বিষয়টি সবসময় উপেক্ষা করা যায় না। পিপিপির মাধ্যমে এই আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্বচ্ছতা যেমন থাকবে, তেমনি প্রকৃতই নাগরিক সুবিধা বাড়বে।