ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা সদরে ও আশপাশ এলাকায় বেড়েছে ‘মৌসুমী’ ভিক্ষুকের আনাগোনা। জেলা শহরগুলোর ছোট-বড় বিভিন্ন মার্কেট, অভিজাত এলাকা, বাস টার্মিনাল, বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাটে বেড়ে চলছে ভিক্ষুকের সংখ্যা। এদের বেশিরভাগই অপেশাদার ভিক্ষুক। তবে এসব ভিক্ষুকের সংখ্যা কত তার কোন হিসাব না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে প্রতিটি জেলা সদরে কম পক্ষে ৭ থেকে ৮শ’ ভিক্ষুক ঈদকে সামনে রেখে ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিয়েছেন।
পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা যায়, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী মহানগরীতে ভিক্ষুকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন ভিক্ষুক আসছে শহরগুলোতে। যেখানে ঈদের কেনাকাটা হচ্ছে সেখানে আনাগোনা বাড়ছে ভিক্ষুকের। এদের মধ্যে ‘মৌসুমী’ ভিক্ষুকদের একটা অংশ ঘর-গৃহস্থালীর ফাঁকে ফাঁকে ভিক্ষা করে থাকে। এদের যন্ত্রণায় শহরের বিপণি বিতান, মসজিদ-মাজারে আসা মানুষরা বিব্রত। সরেজমিনে দেখা যায়, ১ হাত নেই, ১ পা নেই, অন্ধ মানুষের সাথে সাথে সুস্থ মহিলা ও পুরুষরা নগরজুড়ে সারাদিন ভিক্ষা করছে। কখনো কখনো এদের বহন করতে সহযোগী থাকছে। এছাড়াও সামান্য অঙ্গহানি বা সুস্থ মানুষও ভিক্ষুক সেজে ঘুরছে নগরীতে। তারা শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতস্থান দেখিয়ে বা কোলে শিশু নিয়ে ভিক্ষা করে থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন বস্তির শিশুকে ৩০ থেকে ৪০ টাকার বিনিময়ে এসব ভিক্ষুকের কাছে ভাড়া দেয়া হয়। শপিংমলের আশপাশের এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়ালে দেখা যায়—ময়লা কাপড় পরা ছোট ছোট শিশু আর নারীরা ভিক্ষা করছে। আর বছর জুড়েই ভিক্ষুকরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করে। কিন্তু ঈদ এলে তাদের উত্পাত বেড়ে যায় অনেকগুণ। রংপুর নগরীর কেরামতিয়া মসজিদের সামনে, জাহাজ কোম্পানি মোড়, সিটি বাজার, সুপার মার্কেট, শাপলা চত্বর, স্টেশন, কামার পাড়া বাসস্ট্যাান্ড, মডার্ণ মোড়, মেডিক্যাল মোড় ও বিভিন্ন মসজিদের মোড়সহ ১৫/২০টি স্পট এবং উত্তরাঞ্চলের প্রতিটি শহরের ২০ থেকে ২৫টি স্পটে ভিক্ষাবৃত্তি চলছে। এসব স্থানে ভিক্ষুকরা গজল, হামদ-নাতসহ বিভিন্ন গান গেয়ে বা ক্ষতস্থান দেখিয়ে ভিক্ষা করছে। আবার অনেকে কর্মক্ষম হলেও অভাবি মানুষ সেজে ভিক্ষা করে। তবে পুরুষের চেয়ে নারী ভিখারীর সংখ্যাই বেশি।
