রমজানে কাবা শরীফে ইফতার-তারাবীর অনুভূতি অচিন্তনীয়

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৪, ১৯:৩৮
রমজান মাসে আল্লাহর পবিত্র ঘর খানায় কাবায় তওয়াফ করবো, ইবাদত বন্দেগী কবো এটা ছিল স্বপ্নের মত। অবশেষে স্বপ্ন সত্য হলো। আমি এখন মসজিদুল হারামে প্রচন্ড রৌদ্রের মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষের সঙ্গে প্রায় ১০ মিনিট তওয়াফ শেষ করলাম। পাঁচ ছয়দিন আগেই কাবায় পৌঁছেছি। যারা রমজানে কাবা শরীফে না এসেছেন তাদের কাছে এখানের দৃশ্য বর্ণনা করার ভাষা আমার জানা নেই। এখানে উপস্থিত লক্ষ লক্ষ মানুষের এক সঙ্গে ইবাদত বন্দেগী, ইফতারী, তারাবী, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার দৃশ্য প্রত্যেক মানুষকে ভাবাবেগে আপ্লুত করে ফেলে। বিশেষ করে ইফতারী পূর্বের দৃশ্য অভাবনীয়। প্রায় ৭/৮ লাখ রোজাদার এখানে এক সঙ্গে ইফতার করেন। সবাই সবাইকে তাদের নিজ নিজ ইফতারী গ্রহণ করার জন্য যেভাবে আহ্বান করেন তাতে সবাই ভক্তিতে বিমোহিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় সৌদিয়ানরা ইফতারীর সময় প্রচুর পরিমাণ খেজুর, বনরুটি, দুকা মশলা মিশ্রিত দই সরবরাহ করে থাকেন। ছোট ছোট বাচ্ছারা তাদের ইফতারী করার জন্য বলতে থাকেন আমাদের ইফতারিটা নিন। আমাদের ইফতারীটা নিন। মেহমানদারীর অপূর্ব নিদর্শন ফুটে ওঠে এই সময়। তারাবী নামাজ পড়ার সময় আর একটি আবেগময় দৃশ্য ফুটে ওঠে। প্রায় ৫০ লাখ মানুষ এক সঙ্গে তারাবী নামাজ পড়েন। দশ রাকাত করে দু’বারে হয়। প্রথম জামাত ৯.৩০ মিনিট থেকে ১১.৪৫ পর্যন্ত চলে। আর বাকী দশ রাকাত রাত ১টায় শুরু হয়ে ৩টায় শেষ হয়। প্রথম দশ রাকাত একজন হাফেজ পড়ান। পরের দশ রাকাত অন্য হাফেজ পড়ান। তবে তারাবী নামাজে তাদের সুললিত কণ্ঠের মুক্ত দানারমত স্পষ্ট উচ্চারণের তেলাওয়াত উপস্থিত ৫০ লাখ মুসল্লিদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, ভুলিয়ে ফেলে দুনিয়ার সব কিছু। কাবা ঘরে তারাবী নামাজ পড়ার প্রশান্তি সত্যি সব কষ্ট ক্লান্তি দূর করে দেয়। যখন তারাবী নামাজ শুরু হয় তখন কাবাঘরের ভেতর, বাহির কাবার আঙ্গিনা পুরো এলাকা জুড়ে থম থম নিস্তব্ধ অবস্থা বিরাজ করে। কেবল তেলাওয়াতের শব্দের অনুরণন গুঞ্জরিত হয় কর্ণকুহুরে, হূদয় কন্দরে-মক্কা বন্দরে। আমি অবচেতন হয়ে শুনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কেতাব আল কুরআনের তেলাওয়াত, শ্রেষ্ঠ ঘরে, শ্রেষ্ঠ হাফেজ ক্বারীর সুমধুর কণ্ঠে। আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি। একাকার হয়ে যাই কুরআন ও আমি। মনে প্রশ্ন জাগে আমাদের দেশেও তো তারাবী নামাজ পড়ি, সেই তেলাওয়াত কেন আমাকে এতটা আবিস্ট করে না? সারাদিন ঘুরি কাবার চত্বরে, হাতিমে, আবু কুরাইস পাহাড়ের নিভৃত প্রকোষ্ঠে। এখন পুরো পরিবেশ যেন হজ্বের মৌসুমের মত। বরং হজ্বের মৌসুমের চেয়েও লোক সমাগম বেশি পরিলক্ষিত হয়। প্রায় ৬০/৭০ লাখ মানুষের এই বিশাল জমায়েত কেবল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার ও তার প্রিয় হাবিবের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন। ধন্য এজীবন ধন্য মন-প্রাণ। অশেষ কৃতজ্ঞতা সেই রবের যিনি এই অধমকে এখানে আসার তাওফীক দিয়ে ভাগ্যবানদের কাতারভুক্ত করেছেন। সবার রোজা, নামাজ, ইবাদত বন্দেগী কবুল করুন ও সকলকে সুন্দরভাবে ঈদ করার তাওফীক দান করুন রাব্বুল আলামীন।