দেখা হয় নাই
বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই প্রতি শুক্রবারের আয়োজনে থাকছে একটি করে দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক-এর কথা।
ঢাকার খুব কাছেই গাজীপুরে গড়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আদলে গড়ে তোলা এই সাফারী পার্কটির আয়তন প্রায় ৩ হাজার ৬৯০ একর এবং এটি ইতোমধ্যেই এশিয়ার সবচেয়ে বড় সাফারী পার্ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সাফারী পার্কের প্রবেশ থেকে পার্কিং এলাকা, বিনোদন উদ্যান ও প্রশাসনিক কাজের ৩৮ একর এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। প্রধান ফটকেরসামনে রয়েছে বিশাল পার্কিং এলাকা। এখানে নির্মাণ করা হয়েছে আকর্ষণীয় ম্যুরাল ও মডেলসহ ফোয়ারা, জলাধার ও লেক, তথ্য কেন্দ্র, বিশ্রামাগার, নেচারহিস্ট্রি মিউজিয়াম, ইকো-রিসোর্ট ইত্যাদি। মূলত ২৬ প্রজাতির পশুপাখি, ১১টি বাঘ, তিনটি সাদা সিংহসহ মোট দশটি সিংহ, ১০০টি ময়ূর, দুই শতাধিক হরিণ, চারটি জিরাফ, ছয়টি জেব্রা, ১৩টি বন গরু, চারটি হাতি, পাঁচটি ভালুক ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি নিয়ে গেল বছরের শেষ দিকে যাত্রা শুরু করে এই সাফারী পার্কটি। গোটা সাফারী পার্কটিতে মোট চার ধরনের থিমেটিক এরিয়া রয়েছে। এগুলো হলো— কোর সাফারী পার্ক, সাফারী কিংডম, বায়ো-ডাইভারসিটি পার্ক এবং এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারী পার্ক। কোর সাফারী পার্কে সাফারী গাড়ি ছাড়া কোনো পর্যটক প্রবেশ করতে পারেন না। এখানে পর্যটকদের পরিভ্রমণের জন্য দুটি মিনিবাস ও দুটি সাফারী জিপ রয়েছে। এগুলোতে চড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণরত বিভিন্ন প্রাণী দেখা যায়। অন্যদিকে সাফারী কিংডমে পর্যটকরা পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াতে পারেন, যেখানে প্রাণীকূলকে বেষ্টনির মধ্যে আবদ্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নানা সময়ে নির্দিষ্ট কিছু বন্য প্রাণীর নৈপুণ্যও খেলা দেখার ব্যবস্থাও করা হয় এখানে। রয়েছে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগও। সাফারী কিংডমে রয়েছে পাহাড় গেট, প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র, পাখিশালা, মেরিন অ্যাকুরিয়াম, ডার্ক গার্ডেন, পেলিক্যান আইল্যান্ড, ধনেশ এভিয়ারি ইত্যাদি। অন্যদিকে বিলুপ্তপ্রায় বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির গাছের জীন-পুল সংরক্ষণ করাই হলো বায়ো-ডাইভারসিটি পার্কের উদ্দেশ্য। আর এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারী পার্ক তৈরি করা হয়েছে সকল এশীয় তৃণভোজী এবং ছোট মাংশাসী প্রাণী, পাখি, সরীসৃপ ও উভচর প্রাণী নিয়ে। এখানে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের জন্য উপযোগী চারণ ভূমি, বন ও বাগান যেমন তৈরি করা হয়েছে তেমনি রয়েছে অতিথি পাখিদের জন্য তৈরি বিশেষ একটি জলাধারও।
