গোবিন্দগঞ্জের নীলকণ্ঠপুর গ্রামে ভুলে মোবাইলে ফোন যাওয়াকে কেন্দ্র করে চরিত্রহীনা অপবাদ দিয়ে অঞ্জনা বেগম (৩২) নামে এক বিধবাকে গ্রাম ছাড়া করল সমাজপতিরা। এক সালিশী বৈঠকে অঞ্জনাকে চরিত্রহীনা মহিলা হিসেবে অভিযুক্ত করে তার বসতবাড়িতে তালা মেরে দেয় সমাজপতিরা। গত ১৯ দিন অঞ্জনা স্বামীর ভিটে ছাড়া হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এ সুযোগে কথিত এ সমাজপতিরা তার দুটি গরু বিক্রি করে টাকা আত্মসাত্ করছে। এখন তারা অঞ্জনার বসতবাড়ি জবর দখল করার চেষ্টা করছে।
মৃত আ. হামিদের স্ত্রী অঞ্জনা ২ শিশু সন্তান নিয়ে গরু, ছাগল লালন পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। কিন্তু প্রতিবেশী সামো, সুজন, আজাদুল, ছিদ্দিক, আয়নাল গংদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে অঞ্জনার ওপর। তারা দীর্ঘদিন থেকে অঞ্জনাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু বিধবা অঞ্জনা তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার প্রতি ক্ষিপ্ত ছিল ওই চক্রটি। হঠাত্ এক দিন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাম বিকাশ-এর আপার মোবাইল ফোনে কল দিতে গিয়ে কলটি চলে যায় পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার সোনাতালা উপজেলার বোচার পুকুর গ্রামের হারুনের কাছে। এ ফোন কলের খবর পেয়ে ওই চক্রটি অঞ্জনার বিরুদ্ধে নানা রকম কুত্সা রটনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই চক্রটির প্ররোচনায় নীলকণ্ঠপুর গ্রামে গত ৪ জুলাই এক সালিশী বৈঠক বসে। বিধবা অঞ্জনাকে চরিত্রহীনা আখ্যা দিয়ে বসতঘরে তাত্ক্ষণিক তালা লাগিয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন। সালিশে রায় দেন তুহিন, সেলিম ও নয়ন। মাতববর তুহিন মিয়া অন্যদের সহায়তায় বিধবার দুটি ৫০ হাজার টাকার মূল্যের গরু নিয়ে ৩০ হাজার ২শ’ টাকায় বিক্রি করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন তালুকদার শামীম জানান, বিধবা অঞ্জনাকে চৌকিদার দিয়ে বাড়িতে উঠিয়ে দিতে পাঠিয়ে ছিলাম। কিন্তু বিধবা বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলেই ওই কুচক্রী মহল বিধবা মহিলাকে মারধর করছে।
