কুড়িগ্রামের উলিপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের অর্থায়নে নির্মিত গ্রামীণ পাকা সড়কগুলো সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব সড়কের অধিকাংশই পাকা করার একযুগ পার হলেও সংস্কার না হওয়ায় এর খোয়া-পাথর উঠে এখন সেগুলো ফের মাটির রাস্তায় পরিণত হতে চলেছে। রাস্তাগুলোতে বিশাল বিশাল খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উপজেলা সদরের সাথে ইউনিয়নগামী সংযোগ সড়কে চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সড়কগুলোর বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত রিকশা, অটো-রিকশা, নছিমন, করিমন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
উলিপুর প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার উলিপুর উপজেলার ৭৭২ কিঃমিঃ গ্রামীণ সড়ক জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে আইডিভুক্ত করেন। উপজেলা সংযোগ সড়কের ৫২.৫ কিঃমিঃ, ইউনিয়ন সংযোগ সড়কের ৩৯.২ কিঃমিঃ, গ্রামীণ ‘এ’ টাইপ সড়কের ১৩.১ কিঃমিঃ সড়ক মিলে এ পর্যন্ত ১০৪ কিঃমিঃ সড়ক পাকা করা হয়েছে। কিন্তু গ্রামীণ ‘বি’ টাইপ সড়কের ১০৮.৭৫ কিঃমিটার রাস্তা আইডিভুক্ত থাকলেও তা এখনও পাকা করা হয়নি। দীর্ঘদিন আগে বেশির ভাগ সড়ক পাকা করা হলেও সংস্কার না করায় ইতোমধ্যে তার অধিকাংশই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, এসব সড়ক সময় মতো সংস্কার করলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হতো। সঠিক সময় সংস্কার না করা এসব সড়ক পুনরায় চলাচল উপযোগী করতে নতুন করে সড়ক পাকাকরণের মতোই আর্থিক ব্যয় বহন করতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রকৌশলীদের অনেকেরই ধারণা।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়ন পরিষদ হতে হোকডাঙ্গাগামী সড়কটির। সড়কটি পাকাকরণের ১০ বছর পার হলেও সংস্কারের অভাবে তা এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ পথচারীদের চরম বিপাকে পড়তে হয়। এছাড়া উলিপুর-রাজারহাট সড়ক হতে দলদলিয়া ইউপি অফিস, হাতিয়া ইউনিয়নের চৌরাস্তা হতে চিলমারী উপজেলাগামী সড়ক, দুর্গাপুর বাজার হতে পান্ডুল ইউপি অফিসগামী সড়ক, থেতরাই ইউপি অফিস হতে নাজিমখাঁগামী সড়কের অবস্থাও করুণ। এছাড়াও কিছু কিছু সড়কের পাকাকরণের কাজ শেষ না হতেই বড় বড় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়ে সেগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মাসুদ রানা বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে চিঠি লিখলেও বরাদ্দ না আসায় এসব সড়ক সংস্কার করা যাচ্ছে না।
