জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও গাজায় নির্বিচার ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলা চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গাজায় জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্কুলেও ইসরাইলি বিমানবাহিনী গোলাবর্ষণ করে। এতে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত এবং দুই শতাধিক লোক আহত হয়েছে। ইসরাইলি হামলা থেকে বাঁচার জন্য বাড়িঘর ছেড়ে আসা ফিলিস্তিনিরা স্কুলটিকে আশ্রয়শিবির হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রী একথা জানিয়েছেন। খবর বিবিসি ও এএফপির।
তিনি বলেন, বেইত হানুনে অবস্থিত ওই স্কুলটিতে শত শত নারী, পুরুষ ও শিশু অবস্থান করছিল। ইসরাইলি হামলায় মুহুর্তেই স্কুলটির বিশাল অংশ ধুলিস্মাত্ হয়। ধ্বংসস্তুপের নিচে অনেকে আটকে আছে। হামাসের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে জাতিসংঘের কোনো স্থাপনায় এই চতুর্থবার হামলা চালালো ইসরাইল। এদিকে, গাজায় গত ১৬ দিনের অভিযানে নিহতের সংখ্যা ৭২৫ ছাড়িয়ে গেছে। হামাসের রকেট হামলার জবাবে গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল।
এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান ভ্যালেরি অ্যামোস গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সেখানে অস্ত্রবিরতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সংঘাতের ফলে গাজার ৪৪ শতাংশ এলাকায় ফিলিস্তিনিরা যেতে পারছেন না। পাশাপাশি বাসিন্দারা খাদ্য সংকটেও রয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন স্কুলে ১ লাখ ১৮ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছে। পানি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এক কথায়, গাজার সামগ্রিক পরিস্থিতি ‘ভয়াবহ’।
অন্যদিকে, গাজার ইসলামপন্থি গ্রুপ হামাস বলেছে, গাজায় ইসরাইলের অবরোধ তুলে নেয়া ছাড়া সংঘাত নিরসনে সেখানে কোন অস্ত্র বিরতি চুক্তি হতে পারে না। গ্রুপের এক মুখপাত্র বলেন, গাজার বিরুদ্ধে ইসরাইলের আরোপিত দীর্ঘ আট বছরের অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত হামাস অস্ত্র বিরতি প্রস্তাব মেনে নেবে না।
