আজ ২৬ রমজান, শুক্রবার। রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে বলা হয় জুমু‘আতুল বিদা। মাহে রমজান বছরের সেরা মাস আর সপ্তাহের সেরা দিন জুমু’আর দিন। এই দুই সেরার মিলন ঘটে রমজান মাসে সেই মিলন আজ শেষ হচ্ছে। আজকের সূর্য ডুবে যেয়ে যে রাত আসবে তা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ রজনী লায়লাতুল কদর।
জুমু্‘আর সালাত সর্বপ্রথম কায়েম হয় ৬২২ খৃষ্টাব্দে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হিওয়া সাল্লামের মক্কা মুকার্রমা থেকে মদীনা মনওয়ারায় হিজরতের সময়। আল্লাহ্ জাল্লাশানুহু জুমু’আর সালাতের বিধান দিয়ে ইরশাদ করেন: ওহে তোমরা যারা ঈমান এনেছো! জুমু’আর দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহ্র যিকের দ্রুত ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ করো, এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা উপলব্ধি কর। সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহ্র অনুগ্রহ সন্ধান করবে যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা জুমু‘আ: আয়াত-৯-১০)
মদীনা মনওয়ারায় প্রবেশের তিন মাইল আগেই বনু সালীমে প্রথম জুমু’আর সালাত আদায় হয়। জুমু‘আর দিনকে বলা হয় সাইয়েদুল আইয়াম অর্থাত্ দিবসসমূহের সরদ্ার! এ দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিনও বলা হয়েছে। ইদানীংকালে রমজানের শেষ শুক্রবারে আলকুদস দিবস পালিত হয়। অন্যদিকে আজকের দিবাগত রাতে পালিত হবে মহিমান্বিত রজনী লায়লাতুল কদর। একবার প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে শামউন নামের বনী ইসরাঈলের একজন বুযুর্গ ব্যক্তির কথা বলছিলেন যিনি একহাজার মাস লাগাতার দিবাভাগে সিয়াম রাখতেন এবং জিহাদ করতেন এবং রাতে জেগে থেকে ইবাদত-বন্দেগী করতেন। সাহাবায়ে কেরাম একথা শুনে আফসোস করে বলছিলেন, আল্লাহ্ যদি আমাদেরকে লম্বা আয়ু দিতেন তাহলে আমরাও ঐরকম সাধনা করতে পারতাম। এমন সময় সূরা কদর নাযিল হলো। আল্লাহ জাল্লাশানুহু ইরশাদ করেন: নিশ্চয়ই আমি তা (কুরআন) নাযিল করেছি লায়লাতুল কদরে। তুমি কি জানো লায়লাতুল কদর কি? লায়লাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশ্তাগণ ও রূহ্ নাযিল হয় প্রত্যেক কাজে তাদের রব-এর অনুমতিক্রমে। শান্তি! বিরাজ করে ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: কেউ ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করবে তার পূর্ববর্তী সব গোনাহ মাফ করা হবে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম লায়লাতুল কদরে এই দু’আ পড়তে বলেছেন: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফ্উবুন তুহিব্বুন আফ্ওয়া ফা কু আন্নি। - হে আল্লাহ্ আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালো বাসেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন।
যুগ শ্রেষ্ঠ সূফী কুত্বুল আলম হযরত মওলানা শাহ্ সূফী আলহাজ্ব তোয়াজউদ্দীন আহমদ রহমাতুল্লাহি ‘আলায়হি বলেছেন: শবে কদরে প্রকৃতিতে নূরের আধিক্য থাকে।
লায়লাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগী করা উচিত, বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করা উচিত, তরীকতের নিয়মে যিক্র-আয্কার করা উচিত।
