ভারতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণে বিদেশি বিনিয়োগের পক্ষে মোদী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৪, ২২:৫০
একটি দেশের প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি অপরিহার্য হয়ে পড়ে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির ওপর একটি দেশের টিকে থাকার সামর্থ্য নির্ভর করে। এজন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পার্লামেন্টে তার প্রথম ভাষণেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির ওপর জোর দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা প্রতিরক্ষার সব সরঞ্জাম ভারতেই উত্পাদিত হোক। এই কাজে সফল হতে তিনি প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি বিনিয়োগের পক্ষে মত দেন। গত কংগ্রেস সরকার প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিক সরঞ্জাম ক্রয়ে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। ওই সরকার প্রতিরক্ষা খাতে এসব সরঞ্জাম ক্রয় স্থগিত করেছিল। বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। আগামী দশকে প্রতিরক্ষা খাতে ১শত বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কংগ্রেস সরকার মনে করতো, প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি বিনিয়োগে নানা শর্ত থাকে। যাতে খুব একটা লাভ হয় না। বরং অর্থনীতি গতি পায় না। কিছুদিন আগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি বিদেশি কোম্পানি ও ভারতীয় কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে সৈন্য বহনকারী বিমান তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই বিমান তৈরিতে খুব বেশি আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন পড়ে না। তাই এর সফলতা ভারতের থলেতে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর কিছুদিন পর হয়তো প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রতিরক্ষা খাতের অন্য কোনো দরপত্র আহবান করতে পারেন যা সরকারের আকাঙ্খাকার পূর্ণ করবে। সমালোচকরা বলছেন, ভারতের তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিদেশি সরঞ্জামের মতো উন্নত হয় না। তাই বিদেশি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগেই তৈরি করা শ্রেয়। কিন্তু বিদেশি সরঞ্জামের মতো উন্নত সরঞ্জাম তৈরির সামর্থ্য ভারতের আছে। এই সামর্থ্যকের কাজে লাগাতে পারলে ভারত সরকার নিজেদের তৈরি সরঞ্জাম বিদেশে রপ্তানি করতে পারে। বিশেষ করে ছোট দেশগুলো রপ্তানিতে বেশি আগ্রহী হবে। তাই প্রতিরক্ষা খাত জীবিত রাখতে বিদেশি বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।