লালমনিরহাটের তিস্তা সড়ক সেতুতে সরকারি দলের সমর্থক চাঁদাবাজদের লাগামহীন চাঁদাবাজি নিয়ে গত বুধবার রাতে সেতু এলাকায় লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেছে। পুলিশের সাথে চাঁদাবাজদের দফায় দফায় সংঘর্ষ সড়ক অবরোধ অবশেষে অর্ধশত রাউন্ড সর্টগানের গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের এএসপি ও অপর তিন পুলিশসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৫ জনকে গ্রেফতার করলেও পরে উপর মহলের চাপে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুণ্ডা ইউনিয়নের সরকারি দলের সমর্থক চিহ্নিত চাঁদাবাজরা বেশ কিছু দিন থেকে তিস্তা সেতু দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করে। এ নিয়ে স্থানীয় দুই নেতার প্রত্যক্ষ মদদে সেখানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। ঘটনার সময় সেতুতে টোল আদায়ে দায়িত্বরত সড়ক বিভাগের কর্মচারীরা পুলিশের সহায়তা চাইলে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ চাঁদাবাজদের বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ শুরু করে। এসময় ঘটনাক্রমে জেলা পুলিশ সুপার সেখানে উপস্থিত হয়ে মো. রাসেল, জনি ইসলাম, মাসুদ মিয়া, শাহ আলম, শরিফুল নামের ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগের পাঁচ নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করে। এরপরপরই তারা সংগঠিত হয়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকাগামী শতশত বাস সেতুর উভয় পাড়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত আটকা পড়ে। অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বেরিকেড সরাতে গেলে চাঁদাবাজরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ এসময় প্রায় অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অপর দিকে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার প্রবেশদ্বার তিস্তা সড়ক সেতুতে চাঁদাবাজি নির্বিঘ্ন করতে সেতু থেকে পুলিশ তুলে নেয়ার জন্য বেশ কিছু দিন থেকে একজন নির্বাচিত প্রভাবশালী প্রতিনিধি পুলিশ প্রশাসনের উপর ন্যক্কারজনক ভাবে চাপ সৃষ্টি করেন বলে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন।
এছাড়া গত ২০ জুলাই জেলার সর্বোচ্চ ফোরাম জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় তিস্তা সেতুতে লাগামহীন চাঁদাবাজি, দু’গ্রুপের প্রভাব বিস্তার নিয়ে যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। উক্ত সভায় জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন।
