জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন (র্যাগ) করায় তিন ছাত্রীকে ছাত্রত্ব বাতিলসহ আজীবন বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন সামি রেজওয়ানা, সাবরিনা আক্তার নিতু ও রাফিয়া। এরা সবাই মার্কেটিং বিভাগের ৪২তম ব্যাচের শেখ হাসিনা হলের আবাসিক ছাত্রী। এর আগে শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার সুপারিশ করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত ছাত্রীরা ছাত্র-শিক্ষক ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক, প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের সঙ্গে দেখা করে শাস্তি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি এখন আর তাদের হাতে নেই বলে তারা জানান। তারপরেও তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শাস্তির বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।
অন্যদিকে ওই তিন ছাত্রীর ছাত্রত্ব বাতিলসহ আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে ‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড বলে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। গতকাল সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শাস্তি কমানোর দাবি জানানো হয়।
জানা যায়, নবনির্মিত শেখ হাসিনা হলের ৪৩তম ব্যাচের নবীন ছাত্রী মমতাজ বেগম অন্তরাকে (মার্কেটিং বিভাগ) নিজ রুমে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন (র্যাগিং) করে একই বিভাগের ৪২ ব্যাচের সামি রেজওয়ানা, রাফিয়া ও নিতু। ভিকটিম অন্তরা অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে সামি রেজওয়ানা, সাবরিনা আক্তার নিতু ও রাফিয়া তাকে তাদের রুমে যেতে বলে। কিন্তু পরীক্ষা থাকার কারণে রুমে যেতে না পারায় শুক্রবার সকালে তাকে তার সহপাঠিদের দিয়ে চড়-থাপ্পর মারে। পরে ৪ তলা থেকে কান ধরিয়ে নিচ তলায় নামায় এবং আমার ১০ জন সহপাঠি দ্বারা ১টি করে চড়-থাপ্পর মারে। এ ঘটনায় ভিসি বরাবর অভিযোগ করেন অন্তরা।
এ ঘটনায় ওই তিন ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেন শেখ হাসিনা হলের প্রোভোস্ট অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমেদ। মঙ্গলবার ‘ডিসিপ্লিনারি’ কমিটির সভায় বিষয়টি তোলা হয়। সভায় তিন ছাত্রীকে তাদের বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশে আজীবন বহিষ্কার করে সিন্ডিকেট।
