ভাষার গল্প
কঙ্কন সরকার
সাবেক সহযোগি শিক্ষক
শিবরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
গত বুধারের পর
দাদু : মায়ের মুখ থেকে শেখা ভাষার নামই মাতৃভাষা।
যেমন: তুমি তোমার মায়ের মুখ থেকে বাংলাভাষা শিখে বাংলায় কথা বলছ। তাই তোমার মাতৃভাষা বাংলা।
অর্ক : আমার?
দাদু : তোমারও। আমারও। হা হা করে হাসি দিলেন। আমাদের মাতৃভাষা বাংলার কিন্তু গর্ব ও গৌরব আছে। কেননা, ১৯৫২ সালে রফিক, শফিক, জব্বার বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে রক্ষা করেছে মায়ের ভাষা।
অর্ক : ঐ যে ২১ শে ফেব্রুয়ারি। তাই না দাদু।
দাদু : হ্যাঁ। ২১ এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সারা বিশ্ব আমাদের শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে পালন করে। খানিক থেমে বললেন, কে এটি ঘোষণা করেছে জানো?
(দু’জন পরস্পরের মুখ দেখাদেখি করে।)
দাদু : শোন, এটি করেছে জাতিসংঘের ইউনেস্কো সংস্থা।
অর্ক : দাদু, আপনার কাছে সেদিন যে লোকটি এসেছিল উনি কেমন সুরে বলল যে, ক্যামন আছিস বাহে?
পিউ : (হি হি করে হেসে ) উনি আরও বলল যে, মুই এলা কী করিম বাহে?
দু’জনে :এসব আবার কোন ধরণের ভাষা দাদু?
দাদু :মুখে হাসি ভাব এনে বললেন-এসব আঞ্চলিক ভাষা। মানে বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের ভাষার ধরন বা বুলি বিভিন্ন ধরনের হয়ে ওঠে। তবে ওনার ছিল রংপুর অঞ্চলের। তেমনি ঢাকার, চট্টগ্রাম অঞ্চলের, কুমিল্লা অঞ্চলের আলাদা আলাদা ভাষার ধরন রয়েছে। আবার প্রমিত ভাষার রূপও আছে।
খানি থেমে বললেন, ওহ্ বলতে পার বাংলা ভাষার বয়স কত?
অর্ক : তা তো পারছিনা দাদু।
পিউ : আপনিই বলে দিন না দাদু।
দাদু :হাসি ভাব এনে বললেন, বলতেই হবে? শোন তবে, পন্ডিতগণের ধারনা বাংলা ভাষার উত্পত্তি আজ থেকে প্রায় তেরশত বছর আগে। আর একটা কঠিন বিষয় বলি?
দ’ুজনে :কী কঠিন দাদু!
দাদু : হেসে বললেন- অত ঘাবড়াবার কিছু নেই। বিষয়টি হচ্ছে বাংলা ভাষার উত্পত্তি নিয়ে। তা হচ্ছে-মাগধী প্রাকৃতের রূপ হলো গৌড়ি প্রাকৃত। এ গৌড়ি প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উত্পত্তি বা জন্ম। কী কঠিন মনে হলো?
অর্ক :আমি ভাবছি অন্য একটা বিষয় নিয়ে । তা হচ্ছে, মনে করেছিলাম বাংলা ভাষা বুঝি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে!
পিউ :আমি অবশ্য অত কিছু ভাবিনি দাদু।
(দাদু কিছু বলতে যাবে)
দু’জনে :তবে দাদু বার বার পড়ে আমরা সহজ করে নিব ওটি।
দাদু :ওদের মুখ পানে তাকিয়ে বললেন- পারবে তোমরা।
দ্বিতীয় অধ্যায়
