গল্প নয় সত্যি

জাতীয়তা বদলে বিপাকে...

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৪, ১৯:৩৭
সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় ফুটবলারদের এক দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস মোটেও নতুন কিছু নয়। বরং ফি বছরই বিশ্বের সেরা ফুটবল খেলিয়ে দেশগুলোর কোনো না কোনো সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে হয়ে যাচ্ছেন তাদের খেলোয়াড়। আর চিরাচরিত এই পথেই ব্রাজিল ছেড়ে ইউক্রেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন এডমার। ভালো একটা ক্লাব আর জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্নও পূরণ হয়েছিল তার। এমনকি ইউক্রেন জাতীয় দলের পোশাক পড়ে ১১ ম্যাচ খেলা এডমার সর্বশেষ বিশ্বকাপ কোয়ালিফাইং একটি ম্যাচে নেমেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও। অন্যদিকে খেলার বাইরে ২০০৮ সালে বিয়ে করেছিলেন ইউক্রেনেরই মেয়ে তাতিয়ানাকে। তবে এতসব মধুর ইতিহাসের বিপরীতে সামান্য একটি আমন্ত্রণই এখন বেশ ভাবিয়ে তুলছে এডমারকে। ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি অন্য অনেকের মতো এডমারকেও বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার চিঠি দেওয়া হয়। আর একজন ফুটবলার হয়ে ক্লাবের ক্যারিয়ার আর অর্থ ছেড়ে বেশ কিছুটা দিন ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণে সময় কাটাতে হবে জানার পরই কিছুটা অনুতাপ হচ্ছে এডমারের। মজার বিষয় হলো, এডমার যখন ব্রাজিল ছেড়ে ইউক্রেনে পাড়ি জমান তখন শুধুমাত্র সদ্য স্কুল পাশ করা শিক্ষার্থীদের জন্যই এ ধরনের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক ছিল এবং সে সময়টাতে এ ধরনের কার্যক্রমও কীভাবে বাতিল করে দেওয়া যায় সে বিষয়ে আলোচনা চলছিল। তবে সম্প্রতি রাশিয়ার সাথে উত্তেজনা দেখা দেওয়ার পর দ্রুতই আগের অবস্থান থেকে সরে আসে ইউক্রেনের নতুন সরকার। আর এ বাস্তবতাতে ১৮ বছরের বেশি বয়সী অন্য অনেকের মতো সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের ফরমান জারি হয় এডমারের প্রতিও। এদিকে পুরো বিষয়টিতে যার পর নাই বিচলিত এডমার জানিয়েছেন, ফুটবল ছাড়া আর কোনো কিছুই তাকে দিয়ে হবে বলে তিনি মনে করেন না এবং হঠাত্ করে এ ধরনের প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণ পাওয়া নিয়ে তার স্ত্রী’ও বেশ ভীত। এ ছাড়া ইউক্রেনের পাসপোর্ট নেওয়ার সময় তার ক্লাবের পক্ষ থেকে এ জাতীয় কিছু হবে না বলেও তাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন করে সরকারের এই সিদ্ধান্তে এডমারের পাশাপাশি বিস্মিত তার ক্লাব মেটালিস্ট খারকিভও। তবে ভাগ্য খারাপ থাকলে আর সামরিক প্রশিক্ষণের ঝুঁকি এড়িয়ে খেলার জন্য ফিট থাকতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো একজন সামরিক মিডফিল্ডারই পাবে দলটি।