নিজের প্রাণ দিয়ে বাঁচিয়ে গেলেন সন্তানের জীবন। সন্তানকে বাঁচাতে মা পানির নিচে কাদায় ডুবে সন্তানকে দুই হাতের উপরে তুলে রাখেন। উদ্ধারকারীরা শিশু সাইদকে জীবিত উদ্ধার করলেও মা সাজেদা আক্তারকে কাদার ভেতর থেকে মৃত্যু অবস্থায় উদ্ধার করেন। ফুলবাড়ীয়ার বড়বিলা বিলে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নৌকা ডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া দেড় বছরের শিশু সাইদকে দেখতে হাতিলেইট গ্রামে ভ্যান চালক আবু বকর সিদ্দিকের বাড়িতে মানুষ ভিড় করছে।
শিশু সাইদের পিতা আবু বকর ছিদ্দিক জানান, দুদিন ধরে ঘরে খাবার নেই। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ৩ সন্তান নিয়ে বেকায়দায় পড়েছি। এক দিকে ঘরে খাবার নেই, অন্যদিকে সারারাত সাইদ মায়ের জন্য কান্নাকাটি করেছে। ছিদ্দিকের মত অবস্থা নিহত সকল পরিবারেই।
নৌকা ডুবির ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সরকারি বা বেসরকারি তরফ থেকে কোন আর্থিক সহযোগিতা পায়নি। এ নিয়ে কোন তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি। নিহতের পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। বাকি সদস্যরা অভাবের যন্ত্রণায় ছটফট করছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুজ্জামান আকন্দ লালু জানান, নৌকা ডুবির পর মোবাইলে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে অ্যাম্বুলেন্স চাওয়া হলেও তিনি অ্যাম্বুলেন্স প্রেরণ করেননি। অ্যাম্বুলেন্স পেলে নিহতের সংখ্যা আরো কম হতো। ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিতে ডুবিতে অসুস্থ রোগীদের সাহায্যে আর্থিক সহযোগিতাসহ একটি মেডিক্যাল টিম প্রয়োজন।
ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ভুইয়া জানান, এ ঘটনায় কোন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। এ বিষয়ে নিজস্ব উদ্যোগে তদন্ত চলছে।
ইউএনও বনানী বিশ্বাসের মোবাইলে একাধিক বার ফোন করে পাওয়া যায়নি।
