ফুলবাড়ীয়ায় বরবটি ক্ষেতে মড়ক

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৪, ২১:২২
ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় বরবটির ক্ষেতে মড়ক দেখা দিয়েছে। এ থেকে রক্ষা পেতে বীজ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধির পরামর্শে ওষুধ কিনে তারা কোন ফল না পেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার সবজি এলাকা হিসাবে পরিচিত এনায়েতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা বরবটি চাষ করে লাভবান হয়ে আসছে। গতবার বরবটি চাষ করে বেশি লাভ পেয়ে অনেক কৃষক দ্বিগুণ জমিতে পাহাড়ী লাল মাটির জমিতে বরবটির চাষ করেছে। কৃষকের আবাদ করা বরবটি গাছের পাতাসহ গাছ হলুদ আকার ধারণ করেছে। কুঁকড়িয়ে গেছে পাতা কাণ্ড। উপজেলা কৃষি অফিসের কোন উপ-সহকারী কৃষি অফিসারের দেখা পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা। চাষীরা জানান, আগে মাঝে-মধ্যে কৃষি অফিসের লোকজন তাদের গ্রামে আসা-যাওয়া করতো। ২ বছর ধরে কোন কৃষি অফিসের লোকজনকে তারা এ গ্রামে দেখা পায়নি। কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টদের না পেয়ে কোম্পানী প্রতিনিধির পরামর্শে উচ্চমূল্যে ওষুধ কিনে বরবটি ক্ষেতে প্রয়োগ করে প্রতিকার না পেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষীরা। বরবটি চাষী রফিকুল ইসলাম জানান, গতবার ৪ কাঠা জমিতে বরবটি আবাদ করে ১৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। এবার বরবটি গাছ ধলিখুড়ি হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত তিনি ৫শ’ টাকার মত বরবটি বিক্রি করেছেন। বরবটি চাষী আমছর আলী জানান, কাহালগাঁও বাজারের চানু মুন্সি ও ছফর আলীর সারের দোকান থেকে ৪০ কেজি বরবটির বীজ কিনে ১১ কাঠা জমিতে রোপণ করেন। রোপণের পর স্বাভাবিকভাবেই বরবটির চারা গজালেও গাছগুলোর বড় হওয়ার পর পাতাসহ গাছ হলুদ বর্ণ ধারণ করে কুঁকড়িয়ে যায়। উপজেলা কৃষি অফিসার আহসানুল বাশার জানান, ৩০ হেক্টর জমিতে বরবটির চাষ হয়েছে। বীজে ভাইরাস থাকায় তা সংক্রমিত হয়ে গাছে লেগেছে। এ সমস্যার জন্য বীজের ত্রুটিই দায়ী। একপ্রকার সাদা মাছি বরবটি গাছে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে দেয়। কৃষককে উচিত আক্রান্ত গাছ মাটিতে পুঁতে ফেলা বা পুড়িয়ে ফেলা। কৃষি অফিসের কেউ কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে না?- জানতে চাইলে তিনি জানান, ২ বছর ধরে ঐ এলাকায় কৃষি বিভাগের লোকজন না যাওয়া বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন।