অধিনায়ক ফিলিপ লামের নেতৃত্বে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেছে জার্মানি। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে লাম জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্সলিগ শিরোপা। সাফল্যই বলছে আন্তর্জাতিক এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে লামের প্রমাণ করার আর কিছু নেই। ফিফা ডটকমকে দেয়া এই সাক্ষাত্কারে জানা গেল ৩০ বছর বয়সী লাম সম্পর্কে আরও অনেক কিছু.......
প্রশ্ন: জার্মানির প্রত্যেক শিশুই যে চারজন অধিনায়কের নাম মুহূর্তেই উচ্চারণ করে তারা হলেন: ফ্রিটজ ওয়াল্টার, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, লোথার ম্যাথাউস এবং এখন যুক্ত হলেন লাম। পায়ের নিচের অবনত করেছেন বিশ্বকে। এর মধ্যে আপনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। একজন কিংবদন্তী হতে পারার অনুভূতিটা কেমন?
লাম: হ্যাঁ, আমি নিশ্চিতভাবেই কিংবদন্তীর পর্যায়ে পড়ি না। তবে দলকে তুলে ধরতে পারায় খুব ভাল লাগছে।
প্রশ্ন: জার্মানির ফুটবলটা কেমন পরিবর্তন হয়েছে?
লাম: সত্যিকার অর্থে ফুটবল একটি দেশকে পরিবর্তন করে কিনা- আমি আসলে এটা জানি না। তবে আমি মনে করি দু’টি বিষয়ই হাতমিলিয়ে চলে।
প্রশ্ন: ১৯৫৪, ১৯৭৪ এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে সাফল্য জার্মানির যুদ্ধোত্তর সময়ের ইতিহাস। ২০১৪ সালের সাফল্যটা কিভাবে মূল্যায়ন করা হবে?
লাম: দলকে ২০১৪ সালে দলকে এগিয়ে নেয়ার পেছনে কারণটা কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে আমি বলবো স্থিতিশীলতা, মেলে ধরার ইচ্ছা এবং দলীয় চেতনা। আমাদের দলের অনেক সক্ষমতা আছে, মিশ্রণটা ভাল এবং মেধাবী নতুন মুখগুলো নিজেদের মেলে ধরতে অপেক্ষা থাকে।
প্রশ্ন: আগে ব্যাপারটা এমন ছিল যে, বিশ্ব অনিচ্ছায় জার্মানদের প্রশংসা করতো। কিন্তু এখন তারা জার্মানদের প্রেমে পড়ে গেছে। এই বৈশ্বিক আবেগের ঢেউ নিয়ে আপনি কী বলবেন?
লাম: আমি মনে করি আমাদের দল ও আমি অনেক সম্মান এবং স্বীকৃতি পেয়েছি। আমাদের অর্জন এবং আমাদের পরিচ্ছন্ন খেলাই এই ভালবাসার ভিত্তি।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপ জিততে ১০ বছর সময় লেগেছে। কিন্তু এখন আপনি শুধু বিশ্বকাপই জেতেননি, খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন একটি প্রজন্মের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এর নাম লাম প্রজন্ম। প্রগতিশীল এসব তারকা খেলোয়াড়দের ছাপগুলো কেমন?
লাম: নিশ্চিতভাবে তারুণ্যের উন্নয়নে গত ১০ থেকে ১৫ বছরে জার্মানি যথেষ্ট লাভবান হয়েছে। বুন্দেসলিগার প্রতিটি ক্লাবেই উঁচুমানের একাডেমি রয়েছে, অনুশীলনেও তীব্রতা ও পেশাদারিত্ব এসেছে এবং আমাদের পুরো সময়ের জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন কোচ আছে। জার্মানির প্রত্যেকটি প্রজন্মই ভাল ভাল খেলোয়াড় তৈরি করেছে। সামপ্রতিক বছরগুলোতে এর সঙ্গে কৌশলের ব্যাপারটিও দেখা হচ্ছে। জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ডিএফবি এবং ক্লাবগুলো মিলে অবকাঠামোতে জোর দেয়ার ফলেই বিশ্বকাপে সাফল্য পেয়েছি আমরা।
প্রশ্ন: পেপ গার্দিওলা বলেছেন, তার জীবনে যেসব খেলোয়াড়ের নিয়ে কাজ করেছেন এরমধ্যে আপনি সবচেয়ে বুদ্ধিমান। বুদ্ধিমত্তা দিয়ে আপনি কী গোল করতে পারেন? সত্যিই কী আপনি অন্যদের তুলনায় বুদ্ধিমান?
লাম: এটা আমি জানি না। তবে মিনিটের মধ্যেই ফুটবলের যাবতীয় জিনিস নিয়ে গার্দিওলার সঙ্গে আলোচনা করাটা দারুণ জমে। এটা আমি জানি। এটা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
প্রশ্ন: একটা ম্যাগাজিনে আপনার সম্পর্কে বলা হয়েছে : ‘তার বিচক্ষণ ও চমত্কার খেলার মূল ভিত্তি নির্ভরশীল চূড়ান্ত টেকনিক্যাল দক্ষতা এবং এই কৌশল অনস্বীকার্যভাবে চমত্কার খেলা উপহার দেয়। এই বিশ্লেষণের সঙ্গে কী একমত না একমত নন?
লাম: আমি এই বিশ্লেষণের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করবো না এবং কিছু যোগও করতে চাই না। আমার সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ করায় আমি ধন্যবাদ জানাই।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপ চলাকালে পণ্ডিত এবং ধারাভাষ্যকাররা আপনার সম্পর্কে বলতে ছিলেন, ‘সে কখনোই ভুল করে না।’ গত মৌসুমে বুন্দেসলিগায় বায়ার্নের হয়ে হার্থা বার্লিনের বিপক্ষে ম্যাচে শতভাগ পাসিংয়ের নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন। ম্যাচটিতে ১৩৩টি পাস সফলভাবে করেছিলেন। কিভাবে এমনটা অর্জন করেছেন?
লাম: মাঠে ভাল অনুভূতি এবং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ থেকেই এমনটা আসে। কোচ এবং দলের মধ্যে ভাল বোঝাপড়া থাকলেই কেবল আপনি এমনটা পেতে পারেন।
প্রশ্ন: একটা গোপন কথা বলুন। আপনার দুর্বলতাগুলো কী?
লাম: লেফট-ব্যাক হিসেবে বাম পায়ে ডিফেন্ডিংয়ে আমি অসুবিধার সম্মুখীন হই। তাই আমি লেফট-ব্যাক হিসেবে একদম খেলতে চাই না। আর রাইট-ব্যাক এবং মিডফিল্ডে আমার ঝোঁক আছে। তবে আমি নিশ্চিতভাবে কোনো কিছু পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই না। তাহলে আমার প্রতিপক্ষরা আমাকে আবিষ্কার করে ফেলবে।
প্রশ্ন: ব্রাজিল বিশ্বকাপে এমন কোনো মুহূর্ত কী আছে যার জন্য আপনার অথবা দলের পরিপক্বতা নিয়ে আপনার সন্দেহ হয়েছে?
লাম: না। এই ধরনের টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালনের সময়ে নিজের ওপর বিশ্বাস এবং দলীয় শক্তিটা তুলে ধরতে হয়। ব্রাজিল বিশ্বকাপে আমাদের কোনো কিছু নিয়ে সন্দেহ ছিল না।
প্রশ্ন: ব্রাজিল থেকে ট্রফি ছাড়া আর কী নিয়ে এসেছেন?
লাম: ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালবাসা।
প্রশ্ন: আপনি এই সময়ে কেন অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন?
লাম: ব্রাজিল বিশ্বকাপ জয়সহ জাতীয় দলের হয়ে আমার ক্যারিয়ার নিয়ে সুখী এবং কৃতজ্ঞ। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় এটাই আমার থেমে যাওয়ার সময়।
