মা থাকলে এইসব কালনিশির ব্যথা
দাওয়ায় বসে আজ পড়ন্ত রোদে
আমার বুকে শান্ত হাত বুলিয়ে বুলিয়ে
খুলে ফেলতেন বাইরে।
যদি বলতাম আমার শিশুগুলো দুধের অভাবে
কেবল কান্দে মা; আর আমার দুধের পয়সায়
কালো হাত ঢুকিয়ে রেখেছে লালকালো বাঁদরেরা।
তিনি পড়ন্ত রোদকে আগলে ধরে বলতেন
এইসব বাঁদরেরা দেখিস একদিন
রৌদ্রবেলা মরে মরে পড়ে থাকবে মাছিদের
খাবারে খাবারে।
আর তোমার শিশুর জন্য আমি এক্ষুণিই
আমার দু’টো দুধের নদীমুখ খুলে দিচ্ছি;
এইতো আর কিছুক্ষণ বাদেই ভোর হবে;
লক্ষ্মী আমার আর কান্দে না।
মা নেই,
রাতের পদাবলি বলা যায়না আর আমারই তালগাছে,
তালগাছগুলো এই রাত্রির অন্ধকারে যেন বোবা বোবা
বিশাল সন্ন্যাসী হয়ে আছে।
আমার বাঁশঝাড়গুলো মধ্যরাতে কেবল কঁকিয়ে কঁকিয়ে
কাঁদছে কালবৈশাখের বাতাসে।
বাবা নেই,
বাবা থাকলে হয়তোবা দুধের নদীগুলোকে মরাঘুম
থেকে ডেকে তুলে স্রোতস্বিনী করে দিতেন আমার
শিশুদের জন্যে এই মধ্যরাতে।
