ছিলে না চিত্রিণী তুমি, অথবা পদ্মিনী
পরোনি পাঁইজোর পায়ে, অথবা পাশুলি
কিংবা গাঁথোনি ফুল— পিউলি বেণীতে;
তবু তুমি অনন্যা বসুধা!
সেই কবে খেয়াহীন বর্ষার ঘাটে ভেজাচুল-হাসি
আঁচলে ওড়ালে হাওয়া বকুলগন্ধের
বুলালে মায়াবী ঘ্রাণ চক্ষুপুষ্পের;
তারপর থেকে আর ‘পর’ বলে ভাবিনি তোমাকে।
কেতকীর ঝোপ রেখে শালবনে যখন দুপুর
হরিণ দেখার ছলে গিয়েছি কতবার;
আড়চোখে তাকিয়েই স্বেচ্ছায় গিয়েছ এড়িয়ে
হুসেনের গজেন্দ্রগামিনীর মতো তুমিও পালালে দম্ভে
একী হলো; পেয়েও হারাতে হলো মাজুল স্বভাবে।
এইভাবে এলেবেলে এলেবেলে করে পালালো সময়
জ্বলেছি নীলকণ্ঠ-বিষে দীর্ঘজীবন
অদৃশ্য পার্শ্বব এক চুপি চুপি হেনে যায় বিরহ-কুঠার
তারপর... তারপরও তোমাকেই খুঁজে ফিরি বুকের বাঁ-পাশে
বেদনার নীল ঘোড়া হ্রেস্বা রবে ছুটে মরে মগজের মাঠে
পরিনি অঙ্গুলিত্র তবু বেদনা লাঘবে;
জানি এই বেদনার মূলভূমি তুমি, তবু জানি
তুমিই জীবন আর তুমিই অঙ্গুলিত্র আমার।
