রাজধানীর রাজপথগুলো ক্রমান্বয়ে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক এলাকা সর্বত্রই ধুলা-ধোঁয়া-আবর্জনার ছড়াছড়ি। ড্রেন-নর্দমার নোংরা তরল ময়লা-পানি ঢুকে পড়ছে বাড়িঘরেও। চারদিকের উত্কট গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে থাকছে।
রাজধানীতে চলাচলকারী ও বাসিন্দাদের চরম দুর্গন্ধ সয়ে বাস করতে হচ্ছে। যেখানে-সেখানে রাস্তার ওপর আবর্জনার স্তূপ গড়ে ওঠায় দুর্গন্ধে পথচারীদের পথচলা যেমন দায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তেমনি যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে বিঘ্ন। ময়লার দুর্গন্ধে সড়ক দিয়ে চলাচল করাটাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নাকে রুমাল চেপেও ময়লা থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। সবচেয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয় শ্বাসকষ্টের রোগীদের। তাদের ময়লা গন্ধ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় শ্বাসকষ্ট।
ফুটপাতের ওপর ছড়িয়ে থাকা আবর্জনার দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরে চলতে হয়। রাজধানীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে আবর্জনার স্তূপ। অলিগলির অবস্থা আরো খারাপ। মৌচাক মার্কেট থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রগতি সরণি যেন সিটি করপোরেশনের আবর্জনার ভাগাড়। সড়কের দুই পাশেই ময়লা ফেলার কনটেইনার থাকায় জনসাধারণের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব কনটেইনার থেকে রাতের বেলা ময়লা অপসারণের কথা থাকলেও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেগুলো সময়মতো পরিষ্কার করে না। অনেক ক্ষেত্রে দিনের বেলায়ও ময়লা অপসারণ করতে দেখা যায়। ময়লার গাড়িও দিনের বেলা চলতে দেখা যায় ব্যস্ত রাজপথে। যানজটের ভেতরে পড়লে তখন দুর্গন্ধে ভোগান্তির শেষ থাকে না।
রোকেয়া সরণির শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে বাজারের সামনের সড়কের অবস্থাও বেহাল। কনটেইনার উপচে আশপাশেও ছড়িয়ে পড়েছে বর্জ্য। তা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের ঢুকতে হচ্ছে নাক চেপে ধরে। কোলাহলপূর্ণ ওই পয়েন্টে বাসগুলো থামে। ওঠা-নামার সময় যাত্রীদের পড়তে হয় বিপাকে। দিনের পর দিন চলছে এই অবস্থা। যত্রতত্র পড়ে থাকা বর্জ্যের উত্কট গন্ধে বিষিয়ে উঠছে নগরজীবন। জীবাণুবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
দুনিয়ার উন্নত সব দেশে দিনের বেলায় রাস্তার পাশে আবর্জনা পড়ে থাকার কথা কল্পনা করাও কঠিন। ডাস্টবিনের ময়লা রাতে নিয়ে ফেলা হয় নির্দিষ্ট ভাগাড়ে। কিন্তু সভ্য মানুষ হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আমরা পুরো রাজধানীকেই আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করার কসরত করছি।
রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি থাকায় এ ব্যাপারে বিপুল অর্থ ব্যয়ই শুধু সার হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন রাজপথের পাশে বসানো হয়েছে কনটেইনার ডাস্টবিন। বাসাবাড়ির আবর্জনা এনে এসব কনটেইনারে রাখা হয়। সিটি করপোরেশনের ঠিকাদাররা এ আবর্জনা ডাম্পিং ডিপোতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত। ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে রাস্তার পাশে দিনের পর দিন আবর্জনা পড়ে থাকে। অভিজাত এলাকা ও কূটনৈতিক পাড়া বারিধারার প্রধান রাস্তার এক বড় অংশকে ময়লার ভাগাড় বানানোর কৃতিত্ব দেখিয়েছে তারা।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি থাকায় রাজধানী ক্রমান্বয়ে ময়লার শহরে পরিণত হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনার এক বড় অংশ ফেলা হচ্ছে বুড়িগঙ্গা নদী কিংবা অন্য কোনো জলাশয়ে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিটি করপোরেশনের অন্যতম একটি নাগরিকসেবা। এজন্য বিপুলসংখ্যক কর্মরত কর্মচারী থাকলেও তারা কতটা দায়িত্বশীল তা এক প্রশ্ন।
ঢাকা
