আমাদের ঈদ উত্সব

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৪, ২১:৪১
ঈদ মানে উত্সব, ঈদ মানেই আনন্দ। এ আনন্দ-উত্সব উপভোগের জন্য প্রিয়জনের সান্নিধ্য সবারই কাম্য। গ্রামপ্রধান বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ শহরে বাস করেন জীবিকার কারণে। আর তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের বেশিরভাগ বসবাস করেন গ্রামে। তাই ঈদ-পূজা ও অন্যান্য উত্সবের সময় তারা গ্রামে ফিরে যান নাড়ির টানে। এছাড়া অপেক্ষাকৃত বেশিদিনের ছুটি থাকায় অনেকে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ পায় ঈদের সময়। এ কারণে স্বভাবতই ঈদের সময় লোকজনের যাতায়াত বেশি হয়। ফলে প্রতি বছর ট্রেন-লঞ্চে আসন না পাওয়া, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, সড়ক-মহাসড়কে যানজট-দুুর্ঘটনা ও পরিবহনগুলোতে বেশি ভাড়া আদায় ও সিডিউল বিপর্যয়সহ বিভিন্ন সমস্যায় ঘরমুখো যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঈদের উত্সব উদযাপনের জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উত্সবভাতা পেলেও দিনমজুর, কৃষক, রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ এসব ভাতা-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অধিকন্তু অন্যান্য পেশার লোকজন কয়েক দিন ঈদের ছুটি ভোগ করতে পারলেও কৃষক-দিনমজুরদের কাজ করতে হয় ঈদের দিনেও। এদিকে ঈদের আগে বেতন-বোনাস না পাওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেক শ্রমিক-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ঈদ উত্সবকে ম্লান করে। ঈদের খুশির দিনেও অনেক অসহায়-দরিদ্র মানুষের দিন কাটে অনাহারে-অর্ধাহারে। এছাড়া অনেক পথশিশু কাগজ কুড়িয়ে আর বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করে ঈদের দিনটি পার করে। ঈদের আনন্দ-খুশি তাদের নাগালের বাইরে থাকে। নতুন জামা-কাপড় পরে আনন্দে মেতে ওঠা তাদের হয় না। তারা চিড়িয়াখানা-শিশুপার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে যায় আনন্দ উপভোগের জন্য নয় বরং নিজেদের জীবিকার সন্ধানে। প্রকৃতপক্ষে ঈদ মুসলিম সমাজের প্রধান আনন্দ-উত্সব। এতে নিহিত আছে ধর্মীয় পুণ্য। আর এ উত্সবের মূলে রয়েছে সামাজিক ঐক্য। দেশবাসী ঈদের আনন্দ-উত্সবে ধর্মীয় পুণ্য ও জাতীয় ঐক্য অর্জনে এবং সামাজিক সাম্য-সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ঢাকা