সাংবাদিক লেখক বেবী মওদুদ আর নেই

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৬
সাংবাদিক, লেখক ও সাবেক সংসদ সদস্য এ এন মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদ আর নেই। বেশ কিছুদিন ক্যান্সারে ভুগে গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি.....রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। বেবী মওদুদ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রিয় বন্ধু। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এ বন্ধুর মৃত্যুর সংবাদ শুনে বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে ইউনাইটেড হাসপাতালে ছুটে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালে বন্ধুর মরদেহ দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় মরদেহের পাশে কিছু সময় কাটান এবং শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। বেবী মওদুদের দুই ছেলে রবিউল হাসান অভি ও শফিউল হাসান দীপ্তকে সান্ত্বনা এবং সব সময় তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী এক শোক বিবৃতিতে বলেন, ‘তার মৃত্যুতে আমি আমার দীর্ঘদিনের একজন প্রিয় বন্ধুকে হারিয়েছি’। বেবী মওদুদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ডেপুটি স্পীকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বেবী মওদুদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। বেবী মওদুদের বড় ছেলে রবিউল হাসান অভি জানান, এশার নামাজের আগে তার মায়ের প্রথম জানাজা ও এশার নামাজের পর ধানমন্ডির ঈদগাহ মসজিদে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা হয়। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় প্রেসক্লাবে। সেখানে জানাজা শেষে রাতে বনানী কবরস্থানে স্বামী অ্যাডভোকেট মো. হাসান আলীর কবরেই তাকে দাফন করা হয়। ১৯৪৮ সালের ২৩ জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন বেবী মওদুদ। তার বাবা আবদুল মওদুদ ছিলেন একজন বিচারপতি। আর মায়ের নাম হেদায়েতুন নেসা। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ১৯৬৭ সাল থেকে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন বেবী মওদুদ। এরপর তিনি দৈনিক সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, বিবিসি, বাসস ও সাপ্তাহিক বিচিত্রায় দীর্ঘদিন কাজ করেন। দীর্ঘদিন তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘মহিলা অঙ্গন’ পাতার সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন। সর্বশেষ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে তিনি সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আনুষ্ঠানিক নাম এ এন মাহফুজা খাতুন হলেও সবাই তাকে চিনতেন বেবী মওদুদ নামে। সাদামাটা পোশাকের স্নেহময়ী এই নারী সহকর্মীদের কাছে ছিলেন বেবী আপা। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখিতে যুক্ত ছিলেন তিনি। লিখেছেন শিশু-কিশোরদের জন্যও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ সম্পাদনাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার শিশুতোষ বইয়ের মধ্যে রয়েছে দীপ্তর জন্য ভালোবাসা, টুনুর হারিয়ে যাওয়া, শান্তর আনন্দ, এক যে ছিল আনু, মুক্তিযোদ্ধা মাণিক, আবু আর বাবু এবং কিশোর সাহিত্য সমগ্র। এছাড়া গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের নারী বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার, নিভৃত যতনে, রোকেয়া টাফ, আমার রোকেয়া, চিরন্তন প্রতিকৃতি রোকেয়া, শেখ মুজিবের ছেলেবেলা (শিশুতোষ জীবনী), মনে মনে (ছোট গল্প), দুঃখ-কষ্ট-ভালোবাসা (উপন্যাস), সষি পুষি টুষি (ছড়া) ও পাকিস্তানে বাংলাদেশের নারী পাচার ছিলো তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা। বেবী মওদুদ নবম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শোক প্রকাশ রাষ্ট্রপতি এক বিবৃতিতে বলেছেন, বেবী মওদুদ ছিলেন এক সত্ ও সাহসী সাংবাদিক। তার মৃত্যুতে জাতি একজন নির্ভীক সংবাদকর্মীকে হারালো। প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর মৃত্যুতে জাতি এক নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক এবং লেখককে হারালো। বেবী মওদুদকে অকৃত্রিম সুহূদ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তার মৃত্যুতে আমি আমার দীর্ঘদিনের একজন প্রিয় বন্ধুকে হারিয়েছি’। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে বেবী মওদুদের ভূমিকা তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। স্পীকার বলেন, বেবী মওদুদ ছিলেন দেশ ও জাতির একজন সাহসী সন্তান। তিনি আমৃত্যু মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। জেপি চেয়ারম্যান পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, বেবী মওদুদ ছাত্র জীবন থেকেই দেশের সকল প্রগতিশীল আন্দোলনের সাথে সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, ঐক্য ন্যাপ, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ পৃথক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।