রানীক্ষেত, গামবোররো, মাইক্রোপাজমা এমনকি এভিয়েন ইনফ্লুয়েনজা বা বার্ড ফ্লুসহ সবধরনের মড়ক থেকে স্থানীয় চিকিত্সার মাধমে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি মুরগির খামার রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন খাইরুল ইসলাম লিটন।
২০০৫ সালে প্রথম ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় বার্ড-ফ্লু ধরা পড়লে ও ২০০৬ সালে প্রথম বার্ড ফ্লু তে আক্রান্ত হয় ‘বাংলাদেশ বিমান পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারি’। দেশের সর্বত্র বার্ড-ফ্লু ছড়িয়ে পড়লে, খামারি খায়রুল ইসলাম লিটনের লেয়ার মুরগির খামার বার্ড-ফ্লু দেখা দেয়। তিনি তার পুঁজিহারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন। আর তখন থেকেই তিনি বার্ড-ফ্লু’র ওষুধ আবিষ্কারে গবেষণা শুরু করেন। তিনি স্বনামধন্য হোমিও চিকিত্সক ও গবেষক পিতা নূরুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর হোমিও ও এলোপাথ উভয় ওষুধের মাধ্যমে মানুষের চিকিত্সার পাশাপাশি পশুপাখিরও চিকিত্সা দিয়ে আসছেন। এর ফাঁকে তিনি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন বার্ড-ফ্লু, রানীক্ষেত, গামবোরো ও মাইক্রোপ¬াজমা রোগের ওষুধ। এসব ওষুধ দিয়ে তিনি রংপুর, লালমনিরহাট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের অনেক বার্ড-ফ্লু আক্রান্ত খামার বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন। রংপুরের পীরগাছা থানার দেউতি এলাকার মোস্তাফিজার রহমানের খামার গত বছর বার্ড-ফ্লু আক্রান্ত হলে তিনি জানান, লিটনের চিকিত্সা ও তত্ত্বাবধানে খামারের ৩ হাজার মুরগি সুস্থ হয়ে ওঠে এবং স্বাভাবিক উত্পাদন অব্যাহত ছিল। লালমনিরহাট জেলার তিস্তার এমদাদ জানান, গত ২ মে তার ৫ হাজার লেয়ার মুরগি আক্রান্ত হলে পাশের খামারি শফিকুল ইসলামের কাছে খায়রুল ইসলাম লিটনের কথা জানতে পেরে দ্রুত তার শরণাপন্ন হই। তার আবিষ্কৃত ওষুধ প্রয়োগ ও তত্ত্বাবধানে খামারের সব মুরগি সুস্থ হয়ে ওঠে। বর্তমানে ডিমের উত্পাদন ৮০ শতাংশ অব্যাহত আছে। রংপুর সদর উপজেলার বোতলা কামাল কাছনার বেলায়েত হোসেনের ৫ হাজার লেয়ার মুরগির খামার ৬ জুন বার্ড-ফ্লুতে আক্রান্ত হলে লিটনের চিকিত্সা ও তত্ত্বাবধানে বর্তমানে স্বাভাবিক উত্পাদন অব্যাহত আছে। তিনি মুরগির বার্ড-ফ্লু ও রানীক্ষেত চিকিত্সায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য অনন্য সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী কর্তৃক পদক, উমর সিরাজ বিকিউ ফাউন্ডেশন কর্তৃক ঢাকা রত্ন ২০১০’ সম্মাননা, জাতীয় যুব সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী কর্তৃক স্বাধীনতা সম্মাননা ২০১১, অগ্রগামী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ঢাকা কর্তৃক নজরুল জন্ম জয়ন্তী পদক ২০১২ ইত্যাদিতে ভূষিত হন। খাইরুল ইসলাম লিটন জানান, স্থানীয় ভাবে আবিষ্কৃত এই ওষুধ ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর। ২০০৫ সালের পশু-পাখির সংক্রামিত রোগ আইনে গবেষণায় বাধার কারণে তিনি গবেষণার কাজটি এগিয়ে নিতে পারছেন না। তিনি দাবি করেন, তার ওষুধগুলো ভালভাবে সেফটি ডিভাইস গবেষণার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে মাঠ পর্যায়ে আক্রান্ত মোরগ-মুরগির উপর প্রয়োগ করা হলে প্রায় শতভাগ ফল পাওয়া যাবে। তাই খামারীসহ অনেকে মনে করছেন, তার আবিষ্কৃত ওষুধগুলো সরকারি গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হলে দেশের পোল্ট্রি শিল্পে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।
