আজ প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। তার সামপ্রতিক লন্ডন সফরের কূটনৈতিক অর্জন ও সফলতা তুলে ধরতে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে তিন দিনের লন্ডন সফর শেষে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেকের আমন্ত্রণে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত গার্ল সামিটে যোগ দিতে সোমবার লন্ডনে যান। গত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ইউরোপের কোন দেশে এটি ছিল শেখ হাসিনার প্রথম সফর। সফরকালে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে দ্বিপক্ষীয় ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়। বৈঠকে অর্থনীতি, সামাজিক ও নারী উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। এই সাফল্য কিভাবে এলো তা দেখতে বাংলাদেশ সফরেরও আগ্রহ প্রকাশ করেন ডেভিড ক্যামেরন। মঙ্গলবার দুপুরে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘গার্ল সামিট-২০১৪’ এ প্রধানমন্ত্রী ২০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের ক্রমহ্রাসমান চিত্র এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী ওই সম্মেলনে বলেন, বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গীকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী সামিটের উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দেন এবং ওয়ালওর্থ একাডেমিতে বুর্কিনা ফাঁসোর ফার্স্ট লেডি চাঁতাল কম্পাওর ও পাকিস্তানের বিশিষ্ট শিশু শিক্ষাকর্মী মালালা ইউসুফ জাইয়ের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ‘ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন (এফজিএম)’ এবং জোরপূর্বক ও বাল্যবিবাহ বন্ধে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদারের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য সরকার ও ইউনিসেফ প্রথমবারের মতো এ সামিটের আয়োজন করে। এছাড়া সর্বদলীয় বৃটিশ সংসদীয় দল, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডেসমন্ড সোয়েন, ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক, যুক্তরাজ্যের ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডগলাস আলেকজান্ডার, বৃটিশ হাউস অব কমন্সের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান কিথা ভাজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর হোটেল স্যুটে সাক্ষাত্ করেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীসহ যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশের কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক হোটেল স্যুটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন। শেখ হাসিনা সোমবার সন্ধ্যায় লন্ডন হিলটন হোটেলে আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত ইফতার মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন। বুধবার সকালে তিনি বিবিসি ওয়ার্ল্ড রেডিও ও বিবিসি বাংলা সার্ভিসকে সাক্ষাত্কারও দেন। একই সঙ্গে ওই দিন বৃটিশ হাউজ অব কমন্সের হোম অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। দুপুরে লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব দেশের সাথেই আমরা সম্পর্ক রাখতে চাই, তবে দেশের স্বার্থ বাদ দিয়ে নয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সমস্যা থাকবে আমরা সেগুলো সমাধান করবো। সমুদ্রসীমা মামলায় বিজয়ী হলেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।