আজ ২৭ রমজান। রমজান মাসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি করে দান-খয়রাত করতেন। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে হযরত জিব্রাঈল আলায়হিস্ সালাম বার বার আসতেন। তখন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম দানের মাত্রা বৃদ্ধি করতেন।
ইসলামে দান-খয়রাত নানা বৈশিষ্ট্যে বিভক্ত। দানকে বলা হয়েছে ইন্ফাক ফী সাবিলিল্লাহ অর্থাত্ আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয়। সাদাকাও দানের অর্থে ব্যবহূত হয়। ইসলাম বদান্যতা অপরিসীম গুরুত্ব প্রদান করে। রমাদান শেষে যে ঈদ আসে তার নাম ঈদুল ফিত্র বা সিয়াম ভাঙার উত্সব আর এর আর এক নাম ফিত্রা বন্টনের উত্সব। ইসলামের পাঁচ বুনিয়াদের অন্যতম যাকাত। যাকাতকে সাদাকাও বলা হয়েছে। যাকাতের ৮টা খাত আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
ইরশাদ হয়েছে: নিশ্চয়ই সাদাকা (যাকাত) কেবল নিঃস্ব (ফকীর), অভাবগ্রস্ত (মিসকিন), আদায়কারী কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ ভাবাক্রান্তদের জন্য, আল্লাহ্র পথে ও মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহ্র বিধান, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা তওবা: আয়াত-৬০)
ঈদুল ফিতর-এর দিন সুবিহ সাদিকের সময় জীবিকা নির্বাহের অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ ছাড়া ৮৭.৪৫ গ্রাম অর্থাত্ সাড়ে সাত তোলা সোনা বা ৬১২.১৫ গ্রাম অর্থাত্ সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা অনুরূপ পরিমাণ মূল্যের অন্য কোনো মালের মালিক হলে সাদাকাতুল ফিত্র ওয়াজিব হয়ে যায়।
ঈদের সালাত আদায় করতে যাবার পূর্বেই ফিত্রা বিলানো উত্তম। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ফিত্রা সিয়ামকে কুকথা ও বাহুল্য বাক্য হতে পবিত্র করে এবং গরীব-দুঃখী-অসহায় মানুষের আহার্য জোগায়। তিনি আরও বলেছেন: ফিত্রা যারা দেয় তোমাদের সেই সব বিত্তবানকে আল্লাহ্ তা’আলা পবিত্র করবেন এবং তোমাদের যারা দরিদ্রদেরকে দান করে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে তার চেয়ে অনেক বেশি দান করবেন। মাহে রমজানে দান করলে ৭০ গুণ সওয়াব পাওয়া যায়। এ মাসে যাকাত বিতরণ করা অন্য মাসের চেয়ে বেশি সওয়াবের।
কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে: তাদের (বিত্তবানদের) ধন সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতের ন্যায্য অধিকার রয়েছে। (সূরা যারিয়াত: আয়াত-১৯)
দানের মাহাত্ম সম্পর্কে কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে: যারা নিজেদের ধনৈশ্বর্য আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের উপমা একটি শস্যবীজ যা সাতটি শীষ উত্পাদন করে। আর প্রত্যেক শীষে একশ’ শস্যকণা। আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। আল্লাহ্ প্রাচুর্যময় সর্বজ্ঞ। (সূরা বাকারা: ২৬১)
