যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির চেষ্টার মধ্যেই গাজায় ফিলিস্তিনি নিধন যজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু ইসরাইল তাতে কর্ণপাত না করে বিমান ও স্থল হামলা অব্যাহত রেখেছে।
ইসরাইলি হামলায় গাজায় গতকাল শুক্রবার এক অন্তঃস্বত্বা নারী, দুই শিশু ও অপর তিনজন নিহত হয়েছে। এর ফলে মোট নিহতের সংখ্যা ৮০৮-এ পৌঁছেছে। জরুরি বিভাগের মুখপাত্র আশরাফ আল- কুদরা একথা জানান। তিনি বলেন, গাজার কেন্দ্রস্থলে দেইর আল বালাহ শহরে একটি বাড়িতে বিমান হামলায় ২৩ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারী ও ২৬ বছর বয়সী অপর এক নারী নিহত হয়েছে। তবে তিনি জানান, গর্ভের শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
কুদরা বলেন, রাফাহ নগরীতে অপর এক বিমান হামলায় ইসলামিক জিহাদের এক মিডিয়া কর্মী সালাহ হাসনাইন এবং তার ১২ ও ১৫ বছর বয়সী দুই ছেলে নিহত হয়েছে। ইসলামি জিহাদ এ মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে। তারা হাসনাইনকে ‘যুদ্ধে মিডিয়া কর্মী’ বলে উল্লেখ করে। কুদরা বলেন, এছাড়া খান ইউনিস নগরীতে আগের গোলাবর্ষণে আহত দুই ব্যক্তি মারা গেছেন। তিনি বলেন, এ নিয়ে ১৮ দিনব্যাপী চলমান ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৮০৮-এ পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবারই প্রায় একশ’ জন নিহত হয়েছে। হামাস এ পর্যন্ত গাজা ও এর আশপাশের এলাকায় ইসরাইলের ৩২ জন দখলদার সৈন্য হত্যা করেছে।
পশ্চিমতীরে বিক্ষোভ: গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে পশ্চিমতীরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলাকালে কমপক্ষে দু’জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছে। এতে প্রায় ২শ’ বিক্ষোভকারী আহত হয়। কমপক্ষে ১০ হাজার বিক্ষোভকারী রামাল্লা থেকে পূর্ব জেরুজালেম অভিমুখে মিছিল করে। কিন্তু সেখানে ইসরাইলি সেনাদের বাধার মুখে বিক্ষোভকারীরা সামনে এগোতে পারেনি। ফলে সেখানে উভয়ের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালের পর ফিলিস্তিনে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের ঘটনা। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ সংগঠন পশ্চিম তীরে এ বিক্ষোভের ডাক দেয়। পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি নেতারা শুক্রবার ক্ষোভ প্রকাশের দিন ঘোষণা করেন।
