নওগাঁর রাণীনগরে মোবাইল ফোনে কথা বলার জের ধরে ভাগ্নের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে গ্রাম্য সালিশে এক প্রবাসির স্ত্রীকে (২৬) ১০১ দোররা মারা হয়েছে। দোররার আঘাতে আহত গৃহবধূকে চিকিত্সা করার সুযোগ না দিয়ে গ্রামের মাতব্বররা একটি বাড়ির দরজায় তালা মেরে বদ্ধ করে রেখেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের ছাতারবাড়িয়া গ্রামে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাণীনগর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা বিষয়টি সরেজমিন তদন্তের জন্য ওই গ্রামে পৌঁছলে মাতব্বররা সাংবাদিকদের বাধার সৃষ্টি করেন। অনেক বাগ-বিতণ্ডার পর গ্রামে প্রবেশ করতে দেয়। গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের ছাতারবাড়িয়া গ্রামের প্রবাসি খয়বর আলীর স্ত্রী (২৬) ও একই গ্রামের আব্দুর রহমান খুশুর ছেলে বাবুর মধ্যে দীর্ঘদিন মোবাইল ফোনে কথপোকথন হয়। বিষয়টি গ্রামের কতিপয় লোক অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে মর্মে সন্দেহে ১৫/২০ দিন আগে মসজিদে নামাজ আদায়শেষে ইমামের বেতন উত্তোলনের সময় ওই দুই পরিবারকে সাময়িকভাবে একঘরে করে রাখে। এরপর ৪/৫ দিন আগে পারিবারিকভাবে বাবুকে মারপিটের মাধ্যমে শাসন করে। মঙ্গলবার রাতে তারাবিহ্ নামাজশেষে গ্রামের কিছু লোকজন নিয়ে প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে মাতব্বর সখিনউদ্দীন প্রবাসীর স্ত্রীকে তওবা পড়িয়ে ১০১টি দোররা মারার নির্দেশ দেন । এসময় মোসলেম উদ্দীন মেয়েকে ১০১টি দোররা মারেন।
সাংবাদিকরা ফতোয়াবাজির শিকার গৃহবধূর সাথে কথা বলতে বা সাক্ষাত্ করতে চাইলে দেখা করতে দেয়নি মাতব্বররা। এসময় গৃহবধূর শাশুড়ি উপস্থিত লোকজনদের জানান, তার পুত্রবধূকে বেদম মারপিট করায় বিছানা থেকে উঠতে পারছে না। হাসপাতালে ভর্তি না করে বাড়ির মধ্যে তালা মেরে বন্ধ করে রেখেছে। গ্রামের আফতাব মাস্টার, সেকেন্দার, মোসলেমসহ গ্রামের অন্যান্য মাতব্বরদের উপস্থিতিতে ১০১টা দোররা মারা হয়েছে। মাতব্বর সেকেন্দার আলী জানান, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। এব্যাপারে মাতবর সখিনউদ্দীন জানান, অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েকে মারপিট করেছে। মাতব্বররা কিছুই করেনি। এব্যাপারে গৃহবধূর পিতা বৃদ্ধ জাফের আলী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে মাতব্বররা একটি বাড়ির মধ্যে তালাবদ্ধ করে রেখেছে। সমাজে বসবাস করতে হবে তাই কিছু বলার নেই। মেয়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ক’দিন ধরে জ্বর অসুস্থ। স্থানীয় অনেকে জানান, সন্দেহ করে এত বড় শাস্তি দেয়া ঠিক হয়নি। রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না।
