রাবি ছাত্রদলের কমিটি গঠনে অনিয়ম

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৪, ২৩:০০
দশ বছর পর অছাত্র ও বহিরাগতের নেতৃত্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শাখা ছাত্রদলের কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। ছয় সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটির সভাপতির ছাত্রত্ব নেই, আর সাধারণ সম্পাদক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন কি অপর চারজনের মধ্যে দুইজনেরই ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে। গত বুধবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০৫ সাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল আহ্বায়ক হিসেবে আরাফাত রেজা আশিক দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এদিকে অছাত্র ও বহিরাগতদের নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণায় রাবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অছাত্রদের নেতৃত্বে আনায় রাবি ছাত্রদলের ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছয় সদস্যের নতুন কমিটি অনুমোদন করেছেন। এতে ইমতিয়াজ আহমেদকে সভাপতি ও কামরুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এই কমিটির অন্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসানুজ্জামান অলিন, সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহমেদ মামুন ও সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক সুলতান আহমেদ। কমিটিকে আগামী ১ মাসের মধ্যে ৮১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা এবং সম্মেলনের মাধ্যমে অধীনস্থ সব সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটি গঠন সম্পন্ন করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সভাপতি ইমতিয়াজ হাসানের ছাত্রত্ব ২০১১ সালে শেষ হয়েছে। তিনি আগের কমিটিকে যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স এণ্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে বিবিএ এবং এমবিএ শেষ করেছেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন। নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার কথা স্বীকার করে ইমতিয়াজ হাসান সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমার ছাত্রত্ব দুই বছর আগে শেষ হয়েছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা বিভাগের অধীনে এক বছরের ফ্রেঞ্চ ভাষা কোর্সে ভর্তি হয়েছি। অবশ্য কোর্সটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এমনকি বহিরাগত যে কোন বয়সীরাও করতে পারেন। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তি হলেও কয়েক বছর পরীক্ষায় বসতে না পারায় পরবর্তীতে তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে। কামরুল অবশ্য দাবি করেছেন, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার পর তিনি মার্কেটিং বিভাগে সান্ধ্যকালীন এমবিএ কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। তবে সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় বহন করতে পারবেন না বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন। অপর দুই সদস্য সহ-সভাপতি আহসানুজ্জামান অলিন ম্যাটারিয়াল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২০০৬ সালে ভর্তি হয়ে পড়াশুনা শেষ করেছেন। আর সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেনের ছাত্রত্বও শেষ হয়েছে।