চট্টগ্রামে ক্ষতিকর বিদেশি শুঁটকিতে বাজার সয়লাব

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৪, ২২:৩৫
মারাত্মক ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত বিদেশি শুঁটকিতে চট্টগ্রামের বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আনা এসব শুঁটকি খেয়ে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে অন্যদিকে বিদেশি শুঁটকির অবাধ আমদানিতে দেশীয় শুঁটকির বাজার বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আমদানি করা এসব শুঁটকি বর্ষা মৌসুমে কৃত্রিম উপায়ে শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়। দ্রুত শুকানোর জন্য ব্যবহার করা হয় নানা ক্ষতিকর কেমিক্যাল। গত মাসে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা এ ধরনের ১২০ টন শুঁটকি ক্ষতিকর বিবেচনা করে ফেরত পাঠায় চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ শুঁটকি ব্যবসায়ী সমিতি ও আসাদগঞ্জ শুঁটকি আড়তদার সমিতি। তবে চট্টগ্রাম থেকে ফেরত পাঠানো শুঁটকি ঢাকা, সিলেট ও সৈয়দপুরে পাইকারি শুঁটকির বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মো. নুরুল আলম নামে আসাদগঞ্জের এক শুঁটকি ব্যবসায়ী ইত্তেফাককে জানান, শুঁটকি উত্পাদনের সময় হলো শীতকাল। বর্ষাকালে রোদ না থাকায় শুঁটকি হয় না। তবে ভারতীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কেমিক্যাল দিয়ে মাছ শুকিয়ে বাংলাদেশে বাজারজাত করছে। অতিরিক্ত লাভের আশায় কিছু অসত্ ব্যবসায়ী সেই শুঁটকি আমদানি করে বাজারজাত করছেন। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যে শুঁটকি উত্পাদন হয় তার চেয়ে এ শুঁটকি চকচকে মনে হলেও এক মাসের মধ্যে এ শুঁটকির রং পরিবর্তন হয় এবং স্বাভাবিক স্বাদ হ্রাস পায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে আনা ক্ষতিকর এই শুঁটকি বর্তমানে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে ভারতীয় শুঁটকির যে বিশাল চালান চট্টগ্রাম থেকে ফেরত পাঠানো হয়, তা ঢাকার কাওরান বাজারের কয়েকটি আড়ত, সৈয়দপুর ও সিলেটের কয়েকটি আড়তে পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব শুঁটকি খেলে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুঁটকির দোকানে অভিযান চালিয়ে ক্ষতিকর বিদেশি শুঁটকি জব্দ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।